শনিবার, ১২ মে, ২০১৮

রমযান মাসে একজন মুসলিম !

0 Comments
আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে (স্বগৃহে) উপস্থিত থাকবে, সে যেন এ মাসটি রোযা থাকে। আর কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান; কাঠিন্য চান না। তিনি চান– তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি যে তোমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন সে জন্য তাকবির উচ্চারণ কর (আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর)। আর যাতে তোমরা শোকর কর।”[সূরা বাকারা ২: ১৮৫] এ মহান মাসটি কল্যাণ ও বরকতের মৌসুম, ইবাদত ও আনুগত্যের মৌসুম।
এটি একটি মহান মাস ও সম্মানিত মৌসুম। এমন এক মাস যাতে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়, পাপকেও জঘন্য ধরা হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে রাখা হয়। যে মাসে আল্লাহ্‌ পাপী-তাপীদের তওবা কবুল করে নেন।
আল্লাহ্‌ আপনাদেরকে কল্যাণ ও বরকতের যে মৌসুমগুলো দিয়েছেন এবং অনুগ্রহ ও অবারিত নেয়ামতের যে উপকরণগুলো আপনাদেরকে বিশেষভাবে দিয়েছেন এর জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করুন। মহান সময়গুলো ও সম্মানিত মৌসুমগুলোকে আনুগত্যের মাধ্যমে এবং গুনাহ্‌র কাজ ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে কাজে লাগান; ফলে আপনারা দুনিয়ায় উত্তম জীবন ও আখিরাতে সুখ লাভ করবেন।
প্রকৃত মুমিনের কাছে সারা বছরই ইবাদতের মৌসুম। সারা জীবনই নেকীর মৌসুম। কিন্তু, রমযান মাসে তার নেক আমল করার হিম্মত বহুগুণ বেড়ে যায়। তার অন্তর ইবাদতের প্রতি বেশি তৎপর হয় ও আল্লাহ্‌ অভিমুখী হয়। আমাদের মহান প্রতিপালক তাঁর রহম ও করম রোযাদার মুমিন বান্দাদের উপর ঢেলে দেন। এ মহান ক্ষণে তিনি তাদের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করার এবং নেককাজের বদলায় উপঢৌকন ও পুরস্কার অবারিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকালের সাথে আজকের কতই না মিল!!
দিনগুলো খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে; যেন কিছু মুহূর্তমাত্র। আমরা এক রমযানকে স্বাগত জানালাম, এরপর বিদায় দিলাম। এই তো সামান্য কিছুদিনের ব্যবধানে পুনরায় রমযানকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছি। আমাদের কর্তব্য এই মহান মাসে নেক কাজে অগ্রণী হওয়া। আল্লাহ্‌ যা কিছুতে সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিন যা কিছু আমাদেরকে আনন্দিত করবে সেসব আমল দিয়ে এই মাসকে ভরপুর করা।

আমরা রমযানের জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিব?

রমযানের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, দুই সাক্ষ্যবাণীর বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে, ফরয আমলগুলো পালন করার ক্ষেত্রে, কু-প্রবৃত্তি বা সংশয়মূলক হারাম আমলগুলো পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে নিজেদের ঘাটতিকে সমালোচনা করার মাধ্যমে।
ব্যক্তি নিজেই নিজের আচরণকে মূল্যায়ন করবে যাতে করে মাহে রমযান ঈমানের উচ্চ স্তরে অবস্থান করতে পারে। কারণ ঈমান বাড়ে ও কমে। নেককাজের মাধ্যমে বাড়ে। বদ কাজের মাধ্যমে কমে। তাই বান্দার সর্বপ্রথম যে নেককাজটি বাস্তবায়ন করা কর্তব্য সেটা হচ্ছে– ‘ইবাদত বা উপাসনা শুধু আল্লাহ্‌র জন্য’ এটি বাস্তবায়ন করা এবং মনে মনে এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। সব ধরণের ইবাদত বা উপাসনা কেবল আল্লাহ্‌র জন্য নিবেদন করবে; এতে অন্য কাউকে তাঁর সাথে অংশীদার বানাবে না। এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, সে যেটা পেয়েছে (যেটার শিকার হয়েছে) সেটা কিছুতেই ছুটে যেত না। এবং সে যেটা পায়নি (যেটার শিকার হয়নি) সেটা সে কিছুতেই পেত না (শিকার হত না)। সবকিছু তাকদীর অনুযায়ী ঘটে।
এ দুই সাক্ষ্যবাণীর বাস্তবায়ন করার সাথে যা কিছু সাংঘর্ষিক আমরা সেগুলো থেকে বিরত থাকব। আর তা অর্জিত হবে বিদআত ও দ্বীনি ক্ষেত্রে অভিনব প্রচলন করা থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে এবং ‘মিত্রতা ও বৈরিতা’ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। অর্থাৎ আমরা ঈমানদারদের সাথে মিত্রতা রাখব এবং কাফের ও মুনাফিকদের থেকে বৈরিতা রক্ষা করব। শত্রুর বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ে আমরা খুশি হব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাথীবর্গের অনুসরণ করব। তাঁর সুন্নত ও তাঁর পরবর্তী সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীন-এর সুন্নতের অনুকরণ করব। সুন্নতকে ভালবাসব এবং যারা সুন্নতকে আঁকড়ে ধরে, সুন্নতের পক্ষে কথা বলে তাদের দেশ, বর্ণ বা নাগরিকত্ব যেখানের হোক না কেন আমরা তাদেরকে ভালবাসব।
এরপর নেককাজ পালন করার ক্ষেত্রে আমাদের যে কসুর বা ঘাটতি রয়েছে সে ব্যাপারে নিজেরা আত্মসমালোচনা করব। যেমন- জামাতে নামায আদায় করা, আল্লাহ্‌র যিকির পালন করা, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও অন্য মুসলিমের হক আদায় করা, সালামের প্রচলন করা, সৎকাজের আদেশ দান, অসৎ কাজের নিষেধ করা, পরস্পর পরস্পরকে হকের উপর থাকা, এর উপর ধৈর্য ধারণ করা, গুনার কাজ না করা, ভাল কাজ করার ব্যাপারে ও তাকদীরের উপর ধৈর্য ধারণ করার ব্যাপারে উপদেশ দেয়া।
এরপর পাপ কাজ ও কু-প্রবৃত্তির অনুসরণে লিপ্ত থাকার ব্যাপারে নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে; এগুলোর উপর চলতে থাকা থেকে নিজেদেরকে প্রতিহত করার মাধ্যমে। সেটা ছোট পাপ হোক কিংবা বড় পাপ হোক। সেটা আল্লাহ্‌ কর্তৃক নিষিদ্ধ কিছুর দিকে নজর দেয়ার মাধ্যমে দৃষ্টির পাপ হোক, মিউজিক শুনার মাধ্যমে শ্রুতির পাপ হোক, আল্লাহ্‌ যাতে সন্তুষ্ট নন এমন কোন ক্ষেত্রে পদচারণের পাপ হোক, আল্লাহ্‌ যাতে সন্তুষ্ট নন এমন কিছু ধরার পাপ হোক, আল্লাহ্‌ যা ভক্ষণ করা হারাম করেছেন যেমন- সুদ, ঘুষ কিংবা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ইত্যাদি ভক্ষণ করার পাপ হোক।
আমাদের সামনে যেন থাকে, আল্লাহ্‌ তাআলা দিনের বেলায় তাঁর হস্ত প্রসারিত করে রাখেন যাতে করে রাতে পাপকারী তওবা করতে পারে এবং তিনি রাতে হস্ত প্রসারিত করে রাখেন যাতে করে দিনে পাপকারী তওবা করতে পারে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “আর তোমরা ছুটে আস তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে ও জান্নাতের দিকে; যার বিস্তৃতি আসমানসমূহ ও যমীনের মত, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। যারা সুদিনে ও দুর্দিনে ব্যয় করে, যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ মুহ্‌সিনদেরকে ভালবাসেন। আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া পাপ ক্ষমা করার কে আছে? এবং তারা যা করে ফেলে, জেনে-বুঝে তারা তা উপর্যুপরি করতে থাকে না। তাদের পুরস্কার হলো তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং জান্নাতসমূহ; যেগুলোর পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে। সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতইনা উত্তম!”[সূরা আলে ইমরান ৩: ১৩৩-১৩৬] আল্লাহ্‌ তাআলা আরও বলেন: বলুন, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ– আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা যুমার ৩৯: ৫৩] আল্লাহ্‌ আরও বলেন: র যে কেউ কোন মন্দ কাজ করে কিংবা নিজের প্রতি যুলুম করে; এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু পাবে।”[সূরা নিসা ৪: ১১০]
আমাদের কর্তব্য এ ধরণের আত্মসমালোচনা, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে রমযান মাসকে স্বাগত জানানো। কারণ “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের সমালোচনা করে এবং মৃত্যুর পরের জন্য আমল করে। আর অক্ষম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে নিজের কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আল্লাহ্‌র কাছে অনেক অনেক আশা করে”।
রমযান মাস হচ্ছে অর্জন করা ও লাভ করার মাস। বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী বেশি লাভ করার জন্য মৌসুমগুলোকে কাজে লাগায়। সুতরাং আপনারা এ মাসে ইবাদত পালন, বেশি বেশি নামায আদায়, কুরআন তেলাওয়াত করা, মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া, অন্যের প্রতি ইহসান করা, দরিদ্রদেরকে দান করা ইত্যাদি সুযোগকে কাজে লাগান।
রমযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে রাখা হয়, শয়তানগুলোকে বন্দি করা হয় এবং প্রতি রাতে একজন আহ্বানকারী ডেকে বলে: ওহে পুণ্যকামী, অগ্রসর হও; ওহে পাপকামী, তফাৎ যাও।
সুতরাং আপনাদের পূর্বসূরিদের অনুকরণ করে, আপনাদের নবীর সুন্নাহ্‌র অনুসরণ করে আল্লাহ্‌র পুণ্যকামী বান্দা হোন; যাতে করে আমরা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে, মকবুল আমল নিয়ে রমযানকে বিদায় জানাতে পারি।
জেনে রাখুন, রমযান মাস নেকীর মাস:
ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন: “এর মধ্যে রয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ্‌র সৃষ্টির মাঝে মর্যাদার তারতম্যের মধ্যে রয়েছে) রমযান মাসকে অন্য মাসগুলোর উপর মর্যাদা দেয়া এবং রমযান মাসের শেষ দশরাত্রিকে অন্য রাত্রিগুলোর মর্যাদা দেয়া।”[যাদুল মাআদ (১/৫৬)]

এ মাসকে অন্য মাসের উপর চারটি কারণে মর্যাদা দেয়া হয়েছে:

এক.

এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যে রাত বছরের অন্য রাতগুলোর চেয়ে উত্তম। সেটি হচ্ছে- লাইলাতুল ক্বদর বা ক্বদরের রাত। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: নিশ্চয় আমরা এটি (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে; আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল-ক্বদর’ কী? লাইলাতুল-ক্বদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সে রাতে ফিরিশতাগণ ও রূহ (জিব্রাইল আঃ) নাযিল হয় তাদের রবের নির্দেশক্রমে সকল বিষয় নিয়ে। শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।[সূরা ক্বাদর ৯৭: ১-৫]
তাই এ রাতে ইবাদত করা সহস্র রাত ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।

দুই.

এ রাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উপর সর্বোত্তম কিতাব নাযিল হয়েছে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: রমজান মাস এমন মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে;  মানবজাতির জন্য হিদায়েতের উৎস, হিদায়াত ও সত্য মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে।”[সূরা আল-বাক্বারা ২: ১৮৫] আল্লাহ্‌ তাআলা আরও বলেন: নিশ্চয় আমি এটাকে (কুরআনকে) এক মুবারকময় রাতে নাযিল করেছি; আর নিশ্চয় আমরা সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক চূড়ান্ত নির্দেশ স্থিরকৃত হয়। আমাদের পক্ষ থেকে নির্দেশ; আর নিশ্চয় আমরা (রাসূলগণকে) প্রেরণকারী। ” [সূরা আদ-দুখান ৪৪: ৩-৫]
ওসেলা বিন আসকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সহিফাগুলো (গ্রন্থগুলো) রমযানের মাসের প্রথম রাতে নাযিল হয়েছে। রমযানের মাসের ষষ্ঠ দিনে তওরাত নাযিল হয়েছে। রমযান মাসের ১৩ তম দিনে ইঞ্জিল নাযিল হয়েছে। রমযান মাসের ১৮ তম দিনে যাবুর নাযিল হয়েছে। রমযান মাসের ২৪ তম দিনে কুরআন নাযিল হয়েছে।”[তাবারানির ‘আল-মুজামুল কাবির’, মুসনাদে আহমাদ, আলবানি ‘সিলসিলা সহিহা’ (১৫৭৫) গ্রন্থে হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]

তিন.

এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে বন্দি করা হয়: আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন রমযান মাস আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে বন্দি করা হয়।” [সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম]
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: “যখন রমযান মাস আগমন করে তখন রহমতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকল বন্দি করা হয়।”[সুনানে নাসাঈ, আলবানি ‘সহিহুল জামি’ (৪৭১) গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
সুনানে তিরমিযি, সুনানে ইবনে মাজাহ ও সহিহ ইবনে খুযাইমা-র এক রেওয়ায়েতে এসেছে যে, “রমযানের প্রথম রাত্রিতে শয়তানগুলো ও উদ্যত জিনগুলোকে বন্দি করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়; একটি দরজাও খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, একটি দরজাও বন্ধ রাখা হয় না। এবং একজন আহ্বানকারী ডেকে বলেন: ওহে পুণ্যকামী, অগ্রসর হও। ওহে পাপকামী, তফাৎ যাও। রমযানের প্রতি রাত্রে আল্লাহ্‌ অনেককে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন।”[আলবানি ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে (৭৫৯) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]
যদি কেউ বলেন যে, আমরা রমযান মাসেও অনেক খারাপ কাজ ও গুনাহর কর্ম ঘটতে দেখি। যদি শয়তানগুলোকে বন্দি করা হত তাহলে তো এসব ঘটত না?
জবাব হচ্ছে: যে ব্যক্তি সিয়ামের শর্তাবলি ও আদবগুলো রক্ষা করে তার ক্ষেত্রে গুনাহ কমে হয়।
কিংবা হাদিসে উদ্দেশ্য হচ্ছে- কিছু শয়তানকে বন্দি করা হয়। তারা হচ্ছে উদ্যত শয়তানগুলো।
কিংবা হাদিসে উদ্দেশ্য হচ্ছে- খারাপ কাজ কম হওয়া। এটি প্রত্যক্ষ বিষয়। রমযান মাসে খারাপ কাজ অন্য সময়ের চেয়ে কম হয়। আর সকল শয়তানকে বন্দি করা হলেও খারাপ কাজ বা পাপ কাজ একেবারে না ঘটা অনিবার্য নয়। কেননা শয়তান ছাড়াও অন্যান্য কারণেও পাপ কাজ ঘটে। যেমন- কলুষিত অন্তরগুলোর কারণে,  খারাপ অভ্যাসের কারণে এবং মানুষরূপী শয়তানগুলোর কারণে।[ফাতহুল বারী (৪/১৪৫)]

চার.

এ মাসে অনেক ইবাদত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু কিছু ইবাদত এমন রয়েছে যেগুলো অন্য সময়ে নেই। যেমন: রোযা রাখা, কিয়ামুল লাইল আদায় করা, খাবার খাওয়ানো, ইতিকাফ করা, সদকা করা ও কুরআন তেলাওয়াত করা।
আমরা মহান আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সকলকে তাওফিক দেন, আমাদেরকে সিয়াম পালন, কিয়াম আদায়, নেক আমল করা ও বদ আমল বর্জনে সাহায্য করেন।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র জন্য।

বুধবার, ৭ মার্চ, ২০১৮

সদ্য বিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য অমুল্য উপদেশ!

0 Comments

বিয়ের সময়  পুত্রের উদ্দেশ্যে  পিতার উপদেশ

হে আমার আত্মজ, প্রথমেই আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এ জন্য যে তিনি আমার জীবনটাকে এতটুকু প্রলম্বিত করেছেন যে আমি তোমার বিয়ের রাত দেখতে পাচ্ছি। তুমি তোমার পুরুষত্বের পূর্ণতায় পৌঁছেছো। আজ তুমি তোমার দীনের অর্ধেক পুরো করতে যাচ্ছো। হ্যাঁ, এখন তুমি সেই জীবন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছো যেখানে তুমি একটি মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছিলে। কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়া যাচ্ছে তা-ই করেছো এতদিন। কোনো চিন্তা ছাড়াই সমুদ্রে গিয়ে লাফিয়ে পড়েছো। সেখান থেকে তুমি যাচ্ছো এখন এক কর্তব্যপরায়ণতা ও পূর্ণতার জগতে।
একজন পিতা সেদিন নিজেকে সুখী মনে করেন যেদিন তিনি নিজের সন্তানকে পুরুষ হয়ে উঠতে দেখেন। তুমি এক নব্য জগতে এবং এক নতুন জীবনে পা রাখতে যাচ্ছ। তাতে অনেক কল্যাণ ও সৌন্দর্য রয়েছে, সুন্দরভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারলে তুমি তা দেখতে পাবে। আবার তাতে অনেক অপ্রিয় ও তিক্ত দিক রয়েছে যা তোমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। তাই তোমাকে যথাযথ পরিচালনা ও উত্তরোত্তর উন্নতি করতে শিখতে হবে। আর অবশ্যই তোমাকে জীবন সঙ্গীনি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তুমি দশটি বিষয়ে লক্ষ্য না রাখলে নিজ ঘরে শান্তি পাবে না। নিজের স্ত্রীর জন্য তুমি এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখবে। অতএব কথাগুলো মনে রেখ এবং এসব অর্জনে সচেষ্ট থেকো :
প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয় হলো :
স্ত্রীরা প্রেম ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পছন্দ করে। এবং তারা চায়  ভালোবাসার সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনতে চায়। অতএব তোমার স্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কার্পণ্য দেখাবে না। এ ব্যাপারে যদি কার্পণ্য করো, তবে তুমি তার ও নিজের মধ্যে নির্দয়তার দেয়াল টেনে দিলে। স্বামী-স্ত্রীর নির্মল ভালোবাসার ব্যকরণে ভুল করলে।
তৃতীয় বিষয় হলো :
স্ত্রীরা কঠোর ও অনড় স্বভাবের পুরুষদের অপছন্দ করে, আর দুর্বল ও কোমল চিত্তধারী পুরুষদের ব্যবহার করে। অতএব প্রতিটি গুণকে স্বস্থানে রাখবে। কারণ, এটি ভালোবাসা ডেকে আনে এবং প্রশান্তি  ত্বরান্বিত করে।
চতুর্থ বিষয় হলো :
মেয়েরা স্বামীর কাছে তা-ই প্রত্যাশা করে স্বামীরা স্ত্রীর কাছে যা প্রত্যাশা করে।  যেমন : ভদ্রোচিত কথা, সুন্দর চেহারা, পরিচ্ছন্ন বসন ও সুগন্ধি। অতএব তোমার প্রতিটি অবস্থায় এসবের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। স্ত্রীকে নিজের মতো করে কাছে পেতে তার কাছে এমন অবস্থায় ঘেঁষবে না যখন তোমার শরীর ঘামে জবজবে। তোমার কাপড় ময়লা। কারণ, তুমি তা করলে যদিও সে তোমার আনুগত্য দেখাবে; কিন্তু তার অন্তরে তুমি এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি করে দিলে। ফলে তার শরীরই তোমার ডাকে সাড়া দেবে। তবে অন্তর তার পালিয়ে বেড়াবে তোমার থেকে।
পঞ্চম বিষয় হলো :
ঘর হলো নারীদের রাজত্ব। ঘরের মধ্যে তারা নিজেকে নিজের আসনে সমাসীন ভাবে। নিজেকে সেখানকার নেতা মনে করে। অতএব তার সাজানো এই প্রশান্তির রাজ্যটিকে তুমি তছনছ করতে যাবে না। এ আসন থেকে তাকে নামাবার চেষ্টাও করবে না।  তুমি যদি তা-ই করো, তবে তাকে যেন তার রাজত্ব থেকে উচ্ছেদ করলে। আর কোনো রাজার জন্য তার চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ হতে পারে না যে কি-না তার রাজত্ব নিয়ে টানাটানি করে। যদিও সে প্রকাশ্যে তোমাকে হয়তো কিছু বলবে না। কিন্তু এতে করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার পরিবেশ দূষিত হবে।
ষষ্ঠ বিষয় হলো :
নারী যেমন চায় তার স্বামীকে পেতে; তেমনি তার পরিবারকেও সে হারাতে চায় না। অতএব তুমি কিন্তু তার পরিবারের সঙ্গে নিজেকে এক পাল্লায় মাপতে যাবে না। যদি এমন চাও যে সে হয়তো তোমার হবে; নয়তো পরিবারের। তবে সে যদিও তোমাকেই অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু মনে মনে ঠিকই বিষণ্ন হবে। যার ভার সে তোমার দৈনন্দিন জীবন পর্যন্ত বয়ে আনবে।
সপ্তম বিষয় হলো :
নিশ্চয় নারীকে সবচে বাঁকা হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি তার দোষ নয়। বরং এ তার সৌন্দর্যের রহস্য। তার আকর্ষণের চাবিকাঠি। যেমন ভ্রুর সৌন্দর্য তার বক্রতায়। অতএব সে কোনো ভুল করলে তার ওপর এমন হামলা চালিও না যাতে কোনো সহমর্মিতা বা সদয়তা নেই। বাঁকাকে সোজা করতে গেলে তুমি তা ভেঙ্গেই ফেলবে। এ ক্ষেত্রে তা হলো তাকে তালাক প্রদান। পক্ষান্তরে ভুলগুলোয় প্রশ্রয় দিলে তবে তার বক্রতা বেড়েই যাবে। সে নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নেবে। ফলে সে তোমার জন্য যেমন নরম হবে না। তেমনি শুনবে না তোমার কথা।
অষ্টম বিষয় হলো :
নারীদের সৃষ্টিই করা হয়েছে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এবং উপকার অস্বীকারের উপাদান দিয়ে। তুমি যদি যুগযুগ ধরে তাদের কারো প্রতি সহৃদয়তা ও সদাচার দেখাও তারপর শুধু একটিবার তার সঙ্গে মন্দ ব্যবহার কর তবে সে বলবে, তোমার কাছে আমি জীবনে ভালো কিছুই পেলাম না। অতএব তাদের এ বৈশিষ্ট্য যেন তোমায় তাকে অপছন্দ বা ঘৃণায় প্ররোচিত না করে। কারণ, তোমার কাছে তার এ বৈশিষ্ট্যটি খারাপ লাগলেও অনেক গুণ দেখবে তার ভালো লাগার মতো।
নবম বিষয় হলো :
নানাবিধ শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির মাঝ দিয়ে নারী জীবন বয়ে চলে। এ দিকে লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য কিছু ফরয পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন যা এ সময় কর্তব্য ছিল। যেমন রজস্রাব  ও সন্তান প্রসবকালে তার জন্য পুরোপুরিভাবে সালাত মাফ করে দিয়েছেন। এ সময়দুটোয় সিয়াম পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না তার শরীরিক সুস্থতা ফিরে আসে এবং তার মেজাজ স্বাভাবিক হয়ে যায়। অতএব এ সময়গুলোয় তুমি আল্লাহ ও ইবাদতমুখী হয়ে যাবে। কারণ, তার জন্য আল্লাহ যেমন ফরযকে হালকা করে দিয়েছেন তেমনি তার থেকে তোমার চাহিদা ও নির্দেশও হালকা করে দিয়েছেন।
দশম বিষয় হলো :
মনে রাখবে স্ত্রী কিন্তু তোমার কাছে একজন বন্দিনীর মতো। অতএব তার বন্দিত্বের প্রতি সদয় থাকবে এবং তার দুর্বলতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। তাহলে সে হবে তোমার জন্য সর্বোত্তম সম্পদ। সে তোমার সর্বোত্কৃষ্ট সঙ্গী হবে। আল্লাহ তোমার কল্যাণ করুন।
বিয়ের রাতে বিদায়ী কন্যার প্রতি মমতাময়ী জননীর একগুচ্ছ উপদেশ
আদরের নন্দিনী মেয়েকে চিরতরে একজনের কাছে তুলে দিতে একজন মায়ের কী কষ্ট লাগে, মমতাময়ী জননীর তখন কী আবেগের ঢেউ খেলে যায়, তাঁর চোখে তখন কত আনন্দ-বেদনার ভাবনা ভীড় করে তা একমাত্র ওই মা জননীই জানেন। কিন্তু শুধু চোখের পানি ফেলে কলিজার টুকরা মেয়েকে শুধু বিদায় জানানোই নয়, তখন যদি তাকে এমন কিছু উপদেশ শুনিয়ে দেয়া যায় যা তার সারা জীবনের সম্বল হবে, যা তার আগামীর দিনগুলোকে উজ্জ্বল সুখময় করবে তবে তা বড্ড ভালো হয়। সে থেকেই নিচের এই অমূল্য রত্নতুল্য উপদেশগুলো ভাষান্তর করে তুলে ধরা হলো। আল্লাহ আমাদের প্রতিটি বোনের এবং মেয়ের জীবনকে করুন বর্ণিল ও সুখময়।
হে আমার মেয়ে, তুমি তোমার বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছো। যেখানে তুমি জন্মেছিলে। যে বাসস্থানে তুমি প্রতিপালিত হয়েছো। যাচ্ছো এমন পরিবেশে যার সঙ্গে তুমি মোটেও পরিচিত নও। মিলিত হবে এমন সঙ্গীদের সঙ্গে যাদের তুমি চেনো না।
অতএব তুমি তার দাসী হয়ে যাও। সে তোমার দাস হয়ে যাবে। আর তার জন্য তুমি ১০টি বৈশিষ্ট্য ধারণ করো, তবে সে তোমার জন্য সঞ্চিত ধন হয়ে যাবে।
প্রথম ও দ্বিতীয়টি হলো :
স্বামীর সঙ্গে থাকবে অল্পে তুষ্টির সঙ্গে। এবংজীবনযাপন করবে আনুগত্য ও মান্যতার ভেতর দিয়ে।
তৃতীয় ও চতুর্থটি হলো :
স্বামীর নজরে পড়ার জায়গাগুলো দেখাশোনা করবে। এবং তার নাকে লাগার স্থানগুলো খুঁজে ফিরবে। তার দুই চোখ যেন তোমার কুৎসিত কিছুর প্রতি পতিত না হয়। আর সুবাস ছাড়া তোমার কাছে যেন কোনো গন্ধ না পায়। সুপ্রসিদ্ধ সুন্দরের সর্বোত্তম হলো চোখের সুরমা। আর পবিত্র সুবাসগুলোর আদি ও সেরা হলো সাবান ও পানি।
পঞ্চম ও ষষ্ঠটি হলো :
স্বামীকে খাওয়াবার সুযোগ তালাশ করবে। এবংতাঁর নিদ্রার সময় নিরব থাকবে। কারণ, ক্ষুধার তাপ মানুষকে তাতিয়ে দেয়। আর ঘুম থেকে কেঁপে ওঠা তাকে ক্ষেপিয়ে দেয়।
সপ্তম ও অষ্টম হলো :
স্বামীর বাসা ও সম্পদের যত্ন নেবে। এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখবে।
নবম ও দশম হলো :
তার কোনো নির্দেশ অমান্য করবে না। এবং তার কোনো দোষ খুঁজে বের করবে না। কারণ, তুমি তার নির্দেশের অবাধ্য হলে অর্থ তার মনটাকে চটিয়ে দিলে। যদি তার কোনো দোষ প্রকাশ করলে তো তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করায় অনিরাপদ হয়ে গেলে।
এরপর আরও মনে রাখবে, তাঁর বিষণ্নতার সময় আনন্দ প্রকাশ করবে না। আবার তাঁর আনন্দের সময় বিষণ্নতা প্রকাশ করবে না। কারণ, প্রথমটি তার কাছে অবহেলা মনে হবে এবং দ্বিতীয়টি তাকে বিরক্ত করবে। তাকে সবচে মর্যাদা তুমি তখনই দেবে যখন তাঁকে সবচে বেশি সম্মান করবে।
আর এ অবস্থায় তুমি সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না যাবৎ না তোমার পছন্দ বা অপছন্দের বিষয়ে তাঁর সন্তুষ্টিকে তোমার সন্তুষ্টির ওপর এবং তাঁর চাওয়াকে তোমার চাওয়ার ওপর অগ্রাধিকার না দাও। অবশেষে প্রার্থনা, আল্লাহ তোমার সার্বিক কল্যাণ করুন। তোমাদের দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করুন। আমীন।
অজ্ঞাত লেখকের বহুল প্রচারিত এই উপদেশগুলো ইন্টারনেটে প্রাপ্ত আরবী থেকে ভাষান্তরিত। মূল লেখাটি এখানে গিয়ে দেখতে পারেন :

বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬

যাকাত ও ছাদাক্বা

0 Comments
‘যাকাত’ অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্রতা ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থে ঐ দান, যা আল্লাহর নিকটে ক্রমশঃ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং যাকাত দাতার মালকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে। ‘ছাদাক্বা’ অর্থ ঐ দান, যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। পারিভাষিক অর্থে যাকাত ও ছাদাক্বা মূলতঃ একই মর্মার্থে ব্যবহৃত হয়।
যাকাত ও ছাদাক্বার উদ্দেশ্য :
যাকাত ও ছাদাক্বার মূল উদ্দেশ্য হ’ল দারিদ্র্য বিমোচন ও ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗَﺪْ ﻓَﺮَﺽَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﺗُﺆْﺧَﺬُ ﻣِﻦْ ﺃَﻏْﻨِﻴَﺎﺀِﻫِﻢْ ﻓَﺘُﺮَﺩُّ ﻋَﻠَﻰ ﻓُﻘَﺮَﺍﺀِﻫِﻢْ - ‘আল্লাহ তাদের উপরে ছাদাক্বা ফরয করেছেন। যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে নেওয়া হবে ও তাদের গরীবদের মধ্যে দেওয়া হবে’।[1]
যাকাতের প্রকারভেদ :
যাকাত চার প্রকার মালে ফরয হয়ে থাকে। ১. স্বর্ণ-রৌপ্য বা সঞ্চিত টাকা-পয়সা ২. ব্যবসায়রত সম্পদ ৩. উৎপন্ন ফসল ৪. গবাদি পশু। টাকা-পয়সা একবছর সঞ্চিত থাকলে শতকরা আড়াই টাকা বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ হারে যাকাত বের করতে হয়। ব্যবসায়রত সম্পদ ও গবাদি পশুর মূলধনের এক বছর হিসাব করে যাকাত দিতে হয়। উৎপন্ন ফসল যেদিন হস্তগত হবে সেদিনই যাকাত (ওশর) ফরয হয়। এর জন্য বছরপূর্তি শর্ত নয়।
যাকাতের নিছাব :
১. স্বর্ণ-রৌপ্যে পাঁচ উক্বিয়া বা ২০০ দিরহাম। ২. ব্যবসায়রত সম্পদ-এর নিছাব স্বর্ণ-রৌপ্যের ন্যায়। ৩. খাদ্য শস্যের নিছাব পাঁচ অসাক্ব, যা হিজাযী ছা‘ অনুযায়ী ১৯ মণ ১২ সেরের কাছাকাছি বা ৭১৭ কেজির মত হয়। এতে ওশর বা এক দশমাংশ নির্ধারিত। সেচা পানিতে হ’লে নিছফে ওশর বা ১/ ২০ অংশ নির্ধারিত। ৪. গবাদি পশু : (ক) উট ৫টিতে একটি ছাগল (খ) গরু-মহিষ ৩০টিতে ১টি দ্বিতীয় বছরে পদার্পণকারী বাছুর (গ) ছাগল-ভেড়া-দুম্বা ৪০টিতে একটি ছাগল।[2]
যাকাতুল ফিৎর :
এটিও ফরয যাকাত, যা ঈদুল ফিৎরের ছালাতে বের হওয়ার আগেই মাথা প্রতি এক ছা‘ বা মধ্যম হাতের চার অঞ্জলী (আড়াই কেজি) হিসাবে দেশের প্রধান খাদ্যশস্য হ’তে প্রদান করতে হয়। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতের স্বাধীন ও ক্রীতদাস, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় সকলের উপর মাথা পিছু এক ছা‘ খেজুর, যব ইত্যাদি (অন্য বর্ণনায়) খাদ্যবস্ত্ত ফিৎরার যাকাত হিসাবে ফরয করেছেন এবং তা ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই আমাদেরকে আদায় করার নির্দেশ দান করেছেন’।[3] ছোট-বড়, ধনী-গরীব সকল মুসলিম নর-নারীর উপরে যাকাতুল ফিৎর ফরয। এর জন্য ‘ছাহেবে নিছাব’ অর্থাৎ সাংসারিক প্রয়োজনীয় বস্ত্তসমূহ বাদে ২০০ দিরহাম বা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা কিংবা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণের মালিক হওয়া শর্ত নয়।
ছাদাক্বা ব্যয়ের খাত সমূহ :
পবিত্র কুরআনে সূরা তওবার ৬০নং আয়াতে ফরয ছাদাক্বা সমূহ ব্যয়ের আটটি খাত বর্ণিত হয়েছে। যথা-
১. ফক্বীর : নিঃসম্বল ভিক্ষাপ্রার্থী, ২.
মিসকীন : যে ব্যক্তি নিজের প্রয়োজন মিটাতেও পারে না, মুখ ফুটে চাইতেও পারে না। বাহ্যিকভাবে তাকে সচ্ছল বলেই মনে হয়, ৩. ‘আমেলীন : যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ, ৪.
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তিগণ। অমুসলিমদেরকে ইসলামে দাখিল করাবার জন্য এই খাতটি নির্দিষ্ট, ৫. দাসমুক্তির জন্য। এই খাত বর্তমানে শূন্য। তবে অনেকে অসহায় কয়েদী মুক্তিকে এই খাতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন (কুরতুবী) , ৬.
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি : যার সম্পদের তুলনায় ঋণের অংক বেশী। কিন্তু যদি তার ঋণ থাকে ও সম্পদ না থাকে, এমতাবস্থায় সে ফক্বীর ও ঋণগ্রস্ত দু’টি খাতের হকদার হবে,
৭. ফী সাবীলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা ৮. দুস্থ মুসাফির : পথিমধ্যে কোন কারণবশতঃ পাথেয় শূন্য হয়ে পড়লে পথিকগণ এই খাত হ’তে সাহায্য পাবেন। যদিও তিনি নিজ দেশে বা বাড়ীতে সম্পদশালী হন। ফিৎরা অন্যতম ফরয যাকাত হিসাবে তা উপরোক্ত খাত সমূহে বা ঐগুলির একাধিক খাতে ব্যয় করতে হবে। খাত বহির্ভূতভাবে কোন অমুসলিমকে ফিৎরা দেওয়া জায়েয নয়।[4]
বায়তুল মাল জমা করা :
ফিৎরা ঈদের এক বা দু’দিন পূর্বে বায়তুল মালে জমা করা সুন্নাত। ইবনু ওমর (রাঃ) অনুরূপভাবে জমা করতেন। ঈদুল ফিৎরের দু’তিন দিন পূর্বে খলীফার পক্ষ হ’তে ফিৎরা জমাকারীগণ ফিৎরা সংগ্রহের জন্য বসতেন ও লোকেরা তাঁর কাছে গিয়ে ফিৎরা জমা করত। ঈদের পরে হকদারগণের মধ্যে বণ্টন করা হ’ত।[5]
যাকাত-ওশর-ফিৎরা-কুরবানী ইত্যাদি ফরয ও নফল ছাদাক্বা রাষ্ট্র কিংবা কোন বিশ্বস্ত ইসলামী সংস্থা-র নিকটে জমা করা, অতঃপর সেই সংস্থা-র মাধ্যমে বণ্টন করাই হ’ল বায়তুল মাল বণ্টনের সুন্নাতী তরীকা। ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এ ব্যবস্থাই চালু ছিল। তাঁরা কখনোই নিজেদের যাকাত নিজেরা হাতে করে বণ্টন করতেন না। বরং যাকাত সংগ্রহকারীর নিকটে গিয়ে জমা দিয়ে আসতেন। এখনও সঊদী আরব, কুয়েত প্রভৃতি দেশে এ রেওয়াজ চালু আছে।
[1]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৭৭২ ‘যাকাত’ অধ্যায়।
[2]. বিস্তারিত নিছাব দ্রঃ ‘বঙ্গানুবাদ খুৎবা’ ‘যাকাত’ অধ্যায়।
[3]. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/১৮১৫-১৬।
[4]. ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩৮৬; মির‘আৎ হা/১৮৩৩-এর ব্যাখ্যা, ১/২০৫-৬।
[5]. দ্রঃ বুখারী, ফাৎহুল বারী হা/১৫১১-এর আলোচনা, মির‘আৎ ১/২০৭ পৃঃ।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬

রমজান মাসে যেসব মুসলমান রোজা রাখে না তাদেরকে কিভাবে দাওয়াত দেয়া যায়?

0 Comments

প্রশ্ন: রমজান মাসে যেসব মুসলিম সিয়াম পালন করে না তাদের সাথে আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত? এবং তাদেরকে রোজা রাখার প্রতি দাওয়াত দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে ঐ সমস্ত মুসলমানকে রোযা রাখার প্রতি দাওয়াত দেয়া, রোজা রাখার প্রতি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা এবং এ মহান ইবাদত পালনে অবহেলা করা থেকে তাদেরকে সাবধান করা ওয়াজিব।
১। তাদেরকে অবহিত করা যে, রোজা একটি ফরজ ইবাদত, ইসলামে রোজার মর্যাদা অতি মহান, ইসলাম যে ভিত্তিগুলোর উপর নির্মিত রোজা সেগুলোর অন্যতম।
২। রোজা পালনের মহান প্রতিদান তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
‏( ﻣَﻦْ ﺻَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺇِﻳﻤَﺎﻧًﺎ ﻭَﺍﺣْﺘِﺴَﺎﺑًﺎ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ ‏) ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 38 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 760 ‏)
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসে রোজা পালন করবে তাঁর পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”[আল-বুখারী (৩৮) ও মুসলিম (৭৬০)]
তিনি আরো বলেছেন:
ﻣَﻦْ ﺁﻣَﻦَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺑِﺮَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻭَﺃَﻗَﺎﻡَ ﺍﻟﺼَّﻼﺓَ ﻭَﺻَﺎﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﻛَﺎﻥَ ﺣَﻘًّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻥْ ﻳُﺪْﺧِﻠَﻪُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ، ﺟَﺎﻫَﺪَ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻭْ ﺟَﻠَﺲَ ﻓِﻲ ﺃَﺭْﺿِﻪِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻭُﻟِﺪَ ﻓِﻴﻬَﺎ . ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺃَﻓَﻼ ﻧُﺒَﺸِّﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻣِﺎﺋَﺔَ ﺩَﺭَﺟَﺔٍ ﺃَﻋَﺪَّﻫَﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻠْﻤُﺠَﺎﻫِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺪَّﺭَﺟَﺘَﻴْﻦِ ﻛَﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽِ ، ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻩُ ﺍﻟْﻔِﺮْﺩَﻭْﺱَ ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺃَﻭْﺳَﻂُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ، ﻭَﺃَﻋْﻠَﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ، ﻭﻓَﻮْﻗَﻪُ ﻋَﺮْﺵُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ، ﻭَﻣِﻨْﻪُ ﺗَﻔَﺠَّﺮُ ﺃَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ‏) ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 7423
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে, রমজানের রোজা পালন করে আল্লাহর উপর তার এই অধিকার এসে যায় যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক কিংবা তার জন্মস্থান থেকে বের না হোক। সাহাবায়ে কেরাম বললেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি মানুষকে এ সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা জান্নাতের ১০০টি স্তর আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। দুই স্তরের মধ্যে ব্যবধান হল আসমান ও যমীনের ব্যবধানের ন্যায়। আপনারা যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবেন। ফেরদাউস হচ্ছে- সর্বোত্তম জান্নাত ও সুউচ্চ জান্নাত। এর উপরে হচ্ছে- আর-রহমানের (পরম দয়ালুর) আরশ। সেখান থেকে জান্নাতের নহরগুলো প্রবাহিত হয়।”[সহিহ বুখারী (৭৪২৩)]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন:
ﺍﻟﺼَّﻮْﻡُ ﻟِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﺟْﺰِﻱ ﺑِﻪِ ، ﻳَﺪَﻉُ ﺷَﻬْﻮَﺗَﻪُ ﻭَﺃَﻛْﻠَﻪُ ﻭَﺷُﺮْﺑَﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﺟْﻠِﻲ . ﻭَﺍﻟﺼَّﻮْﻡُ ﺟُﻨَّﺔٌ ، ﻭَﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻓَﺮْﺣَﺘَﺎﻥِ ، ﻓَﺮْﺣَﺔٌ ﺣِﻴﻦَ ﻳُﻔْﻄِﺮُ ، ﻭَﻓَﺮْﺣَﺔٌ ﺣِﻴﻦَ ﻳَﻠْﻘَﻰ ﺭَﺑَّﻪُ، ﻭَﻟَﺨُﻠُﻮﻑُ ﻓَﻢِ ﺍﻟﺼَّﺎﺋِﻢِ ﺃَﻃْﻴَﺐُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦْ ﺭِﻳﺢِ ﺍﻟْﻤِﺴْﻚِ ‏) ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 7492 ‏) ﻭﻣﺴﻠﻢ ‏( 1151 ‏)
“আল্লাহ তাআলা বলেন: রোজা আমার-ই জন্য, আমিই এর প্রতিদান দিব। রোজাদার আমার জন্য যৌন চাহিদা ও পানাহার ত্যাগ করে। রোজা হচ্ছে- ঢালস্বরূপ। রোজাদারের জন্য দু’টি খুশি রয়েছে। একটি ইফতারের সময়। অন্যটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাত করবে। নিশ্চয় রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ্র নিকট মিসকের সুবাসের চেয়েও সুগন্ধিময়।”[সহিহ বুখারী (৭৪৯২) ও সহিহ মুসলিম (১১৫১)]
৩। রোজা না-রাখার ভয়াবহতা সম্পর্কে তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা। পরিষ্কার ধারণা দেয়া যে, রোজা না-রাখা কবিরা গুনাহ। ইবনে খুযাইমাহ (১৯৮৬) ও ইবনে হিব্বান (৭৪৯১) আবু উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন:
ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ : ‏( ﺑﻴﻨﺎ ﺃﻧﺎ ﻧﺎﺋﻢ ﺇﺫ ﺃﺗﺎﻧﻲ ﺭﺟﻼﻥ ﻓﺄﺧﺬﺍ ﺑﻀﺒﻌﻲّ ‏( ﺍﻟﻀﺒﻊ ﻫﻮ ﺍﻟﻌﻀﺪ ‏) ﻓﺄﺗﻴﺎ ﺑﻲ ﺟﺒﻼ ﻭﻋِﺮﺍ ، ﻓﻘﺎﻻ : ﺍﺻﻌﺪ . ﻓﻘﻠﺖ : ﺇﻧﻲ ﻻ ﺃﻃﻴﻘﻪ . ﻓﻘﺎﻻ : ﺇﻧﺎ ﺳﻨﺴﻬﻠﻪ ﻟﻚ . ﻓﺼﻌﺪﺕ ﺣﺘﻰ ﺇﺫﺍ ﻛﻨﺖ ﻓﻲ ﺳﻮﺍﺀ ﺍﻟﺠﺒﻞ ﺇﺫﺍ ﺑﺄﺻﻮﺍﺕ ﺷﺪﻳﺪ، ﻗﻠﺖ : ﻣﺎ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﺻﻮﺍﺕ ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻫﺬﺍ ﻋﻮﺍﺀ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﻨﺎﺭ . ﺛﻢ ﺍﻧﻄﻠﻖ ﺑﻲ ﻓﺈﺫﺍ ﺃﻧﺎ ﺑﻘﻮﻡ ﻣﻌﻠﻘﻴﻦ ﺑﻌﺮﺍﻗﻴﺒﻬﻢ ، ﻣﺸﻘﻘﺔ ﺃﺷﺪﺍﻗﻬﻢ ، ﺗﺴﻴﻞ ﺃﺷﺪﺍﻗﻬﻢ ﺩﻣﺎ ، ﻗﻠﺖ : ﻣﻦ ﻫﺆﻻﺀ ؟ ﻗﺎﻝ : ﻫﺆﻻﺀ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﻔﻄﺮﻭﻥ ﻗﺒﻞ ﺗﺤﻠﺔ ﺻﻮﻣﻬﻢ . ﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﻣﻮﺍﺭﺩ ﺍﻟﻈﻤﺂﻥ ‏( 1509 ‏) .
আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। এ সময় দুইজন মানুষ এসে আমার দুইবাহু ধরে আমাকে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গেলো। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে বলল: পাহাড়ে উঠুন। আমি বললাম: আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বলল: আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিচ্ছি। তাদের আশ্বাস পেয়ে আমি উঠতে লাগলাম এবং পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত উঠে গেলাম। সেখানে প্রচণ্ড চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম: এটা কিসের শব্দ? তারা বলল: এটা জাহান্নামী লোকদের চিৎকার।
এরপর তারা আমাকে এমন কিছু লোকদের কাছে নিয়ে এল যাদেরকে পায়ের টাখনুতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের গাল ছিন্নবিন্ন, তা হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এরা কারা? তিনি বললেন: এরা হচ্ছে এমন রোজাদার যারা রোজা পূর্ণের আগে ইফতার করত।”
শাইখ আল-আলবানী ‘সহীহ মাওয়ারিদ আজ-যামআন’ (১৫০৯) গ্রন্থে হাদিসটিকে সহীহ আখ্যায়িত করেন এবং হাদিসটির শেষে টীকা লিখে বলেন: “আমি বলি – এই শাস্তি হল তাঁর জন্য যে রোজা রেখেছে; কিন্তু ইফতারের সময় হওয়ার পূর্বে ইচ্ছাকৃতভাবে ইফতার করে ফেলেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি মূলতই রোজা রাখেনি তার অবস্থা কি হতে পারে?! আমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।”
আরো জানতে দেখুন ( 38747 ) নং প্রশ্নের উত্তর।
৪। রোজা পালন করা যে সহজ, এতে যে কি আনন্দ, খুশি, তুষ্টি, মনের প্রশান্তি ও অন্তরের স্বস্তি রয়েছে তা বর্ণনা করা। কুরআন তেলাওয়াত ও কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে দিবানিশি ইবাদতে মশগুল থাকার যে মজা তা তুলে ধরা।
৫। রোজা, রোজার গুরুত্ব ও রোজার মাসে একজন মুসলিমের করণীয় বিষয়ক কিছু আলোচনা শুনার উপদেশ দেয়া এবং এ বিষয়ক কিছু লিফলেট পড়তে দেয়া।
৬। কোমল ভাষা ও উত্তম কথা দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে যাওয়া ও নসীহত করা। সাথে সাথে তাদের হেদায়াত ও মাগ্ফিরাতের জন্য দোয়া করতে থাকা।
আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য ও আপনার জন্য শক্তি ও সামর্থ্য প্রার্থনা করছি।
আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬

বইঃকুরআন পড়ি কুরআন বুঝি; আল কুরআনের সমাজ গড়ি

0 Comments

বইটি পড়া/ডাউনলোড করা হলে শেয়ার করতে ভূলবেন না
পরম করুণাময় মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি
লেখকঃ মুহাম্মদ ইকবাল ক্বিলানী
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা: আল-কুরআন আমাদের জীবন বিধান। যে বিধানের মধ্যে মানব জীবনের সম্ভাব্য সকল সমাধান নিহিত। কিন্তু কুরআন থেকে দূরে থাকার কারণে কুরআন নিঃসৃত বিধি বিধান থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক প্রফেসর ইকবাল কিলানীর রচিত – “কিতাবুল তা’লিমাতিল কুরআনুল মাজিদ” নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় বুঝার সুবিধার্থে ‘কুরআন পড়ি, কুরআন বুঝি আল কুরআনের সমাজ গড়ি” নাম দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রন্থটিতে লেখক তাঁর বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতার দিক তুলে ধরেছেন। এ গ্রন্থটি খুব বেশী বিস্তারিত না হলেও মৌলিক কিছু বিষয়ের নির্দেশনা রয়েছে।
বইটির উল্লেখযোগ্য আলোচিত বিষয়সমূহের অন্যতমঃ
কুরআন সংরক্ষনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ফোরকানুল হকের ইবলিসী দিকসমূহের কিছু দিক আলোচনা
আল কুরআনের আলোকে আক্বিদা
কুরআন মাজীদের আলোকে নির্দেশাবলী
আল কুরআনের আলকে নিষেধাবলী
আল কুরআনের আলোকে আধিকারসমূহ
আল কুরআনের আলোকে ইসলাম ও কুফুরীর দ্বন্দ্ব
পড়ার সুবিধার্থে:
সূচিপত্রে ইনারএক্টিভ লিঙ্ক যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সূচিতে ক্লিক করেই অনুচ্ছেদটি পড়তে পারবেন।
একনজরে বইটি:
সাইজ: ৭ এমবি
ফরম্যাট: পিডিএফ
মোট পাতা: ২৬৪ টি (কাভার সহ)
download link:

http://www.islameralobd.com

শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

মা-বাবার মৃত্যুর পর তাদের জন্য করণীয় আমলসূমহ.

0 Comments

লেখকঃ হাবিবুল্লাহ মুহাম্মাদ ইকবাল | অনুবাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
ﺇﻥ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻋﻠﻰ ﺁﻟﻪ ﻭﺻﺤﺒﻪ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ، ﺃﻣﺎ ﺑﻌﺪ
মা-বাবা ছোট শব্দ, কিন্তু এ দুটি শব্দের সাথে কত যে আদর, স্নেহ, ভালবাসা রয়েছে তা পৃথিবীর কোন মাপযন্ত্র দিয়ে নির্ণয় করা যাবে না। মা-বাবা কত না কষ্ট করেছেন, না খেয়ে থেকেছেন, অনেক সময় ভাল পোষাকও পরিধান করতে পারেন নি, কত না সময় বসে থাকতেন সন্তানের অপেক্ষায়। সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছেন, তারাই বুঝেন মা বাবা কত বড় সম্পদ। যেদিন থেকে মা বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন সেদিন থেকে মনে হয় কী যেন হারিয়ে গেল,তখন বুক কেঁপে উঠে, চোখ থেকে বৃষ্টির মত পানি ঝরে, কী শান্তনাই বা তাদেরকে দেয়া যায়! সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছে তারা কি মা-বাবার জন্য কিছুই করবে না?। এত কষ্ট করে আমাদের কে যে মা-বাবা লালন পালন করেছেন তাদের জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই? অবশ্যই আছে। আলোচ্য প্রবন্ধে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মৃত মা-বাবা জন্য কী ধরনের আমল করা যাবে এবং যে আমলের সওয়াব তাদের নিকট পৌছবে তা উল্লেখ করা হলো:
১. বেশী বেশী দু‘আ করা
মা-বাবা দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সন্তান মা-বাবার জন্য বেশী বেশী দু‘আ করবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী দু‘আ করবো তাও শিক্ষা দিয়েছেন । আল-কুরআনে এসেছে,
ﺭَﺏِّ ﭐﺭۡﺣَﻤۡﻬُﻤَﺎ ﻛَﻤَﺎ ﺭَﺑَّﻴَﺎﻧِﻲ ﺻَﻐِﻴﺮٗﺍ ٢٤ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺳﺮﺍﺀ : ٢٤ ]
‘‘হে আমার রব, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন’’ [সূরা বানী ইসরাঈলঃ ২৪]
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَٰﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮۡﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﭐﻟۡﺤِﺴَﺎﺏُ ٤١﴾ ‏[ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ٤١ ‏]
‘‘হে আমাদের রব, রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন’’ [সুরা ইবরাহীমঃ৪১]
এছাড়া আলস্নাহ রাববুল আলামীন পিতা-মাতার জন্য দূ‘আ করার বিশেষ নিয়ম শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেনঃ
ﺭَّﺏِّ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَٰﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻤَﻦ ﺩَﺧَﻞَ ﺑَﻴۡﺘِﻲَ ﻣُﺆۡﻣِﻨٗﺎ ﻭَﻟِﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨَٰﺖِۖ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺰِﺩِ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ﺇِﻟَّﺎ ﺗَﺒَﺎﺭَۢﺍ ٢٨ ﴾ ‏[ ﻧﻮﺡ : ٢٨
‘হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি যালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না ’[সূরা নুহ: ২৮] ।
মা-বাবা এমন সন্তান রেখে যাবেন যারা তাদের জন্য দোয়া করবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﺇِﺫَﺍ ﻣَﺎﺕَ ﺍﻹِﻧْﺴَﺎﻥُ ﺍﻧْﻘَﻄَﻊَ ﻋَﻨْﻪُ ﻋَﻤَﻠُﻪُ ﺇِﻻَّ ﻣِﻦْ ﺛَﻼَﺛَﺔٍ ﺇِﻻَّ ﻣِﻦْ ﺻَﺪَﻗَﺔٍ ﺟَﺎﺭِﻳَﺔٍ ﺃَﻭْ ﻋِﻠْﻢٍ ﻳُﻨْﺘَﻔَﻊُ ﺑِﻪِ ﺃَﻭْ ﻭَﻟَﺪٍ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻳَﺪْﻋُﻮ ﻟَﻪُ ‏» .
অর্থ: মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩ টি আমল বন্ধ হয় না-১. সদকায়ে জারিয়া ২. এমন জ্ঞান-যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দু‘আ করে [সহিহ মুসলিম: ৪৩১০]
মূলত: জানাযার নামায প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ স্বরূপ।
২. দান-ছাদকাহ করা, বিশেষ করে সাদাকায়ে জারিয়াহ প্রদান করাঃ
মা-বাবা বেচে থাকতে দান-সাদকাহ করে যেতে পারেন নি বা বেচে থাকলে আরো দান-সদকাহ করতেন, সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে সন্তান দান-সদকাহ করতে পারে। হাদীসে এসেছে,
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺟُﻼً ﺃَﺗَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﺃُﻣِّﻰَ ﺍﻓْﺘُﻠِﺘَﺖْ ﻧَﻔْﺴَﻬَﺎ ﻭَﻟَﻢْ ﺗُﻮﺹِ ﻭَﺃَﻇُﻨُّﻬَﺎ ﻟَﻮْ ﺗَﻜَﻠَّﻤَﺖْ ﺗَﺼَﺪَّﻗَﺖْ ﺃَﻓَﻠَﻬَﺎ ﺃَﺟْﺮٌ ﺇِﻥْ ﺗَﺼَﺪَّﻗْﺖُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻗَﺎﻝَ ‏« ﻧَﻌَﻢْ ‏»
অর্থ: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ ‘‘জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা হঠাৎ মৃতু বরণ করেছেন। তাই কোন অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে তিনি কি এর ছাওয়াব পাবেন ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।’’ [সহীহ মুসলিম:২৩৭৩]
তবে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সাদাকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান ও চলমান সাদাকা প্রদান করা। যেমন পানির কুপ খনন করা, নলকুপ বসানো, দ্বীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, কুরআন শিক্ষার জন্য মক্তব ও প্রতিষ্ঠান তৈরী করা, স্থায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ করা। ইত্যাদি।
৩. মা-বাবার পক্ষ থেকে সিয়াম পালনঃ
মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তাদের কোন মানতের সিয়াম কাযা থাকে, সন্তান তাদের পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করলে তাদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
‏« ﻣَﻦْ ﻣَﺎﺕَ ﻭَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻِﻴَﺎﻡٌ ﺻَﺎﻡَ ﻋَﻨْﻪُ ﻭَﻟِﻴُّﻪُ ‏»
অর্থ: ‘‘যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোজা ওয়াজিব ছিল। তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোজা রাখবে’’ [সহীহ বুখারী:১৯৫২]।
অধিকাংশ আলেমগণ এ হাদীসটি শুধুমাত্র ওয়াজিব রোযা বা মানতের রোযার বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে নফল সিয়াম রাখার পক্ষে দলীল নাই।
৪. হজ্জ বা উমরাহ করাঃ
মা-বাবার পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরাহ করলে তা আদায় হবে এবং তারা উপকৃত হবে। ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
‏« ﺃَﻥَّ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻣِﻦْ ﺟُﻬَﻴْﻨَﺔَ ﺟَﺎﺀَﺕْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﺇِﻥَّ ﺃُﻣِّﻲ ﻧَﺬَﺭَﺕْ ﺃَﻥْ ﺗَﺤُﺞَّ ﻓَﻠَﻢْ ﺗَﺤُﺞَّ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺗَﺖْ ﺃَﻓَﺄَﺣُﺞُّ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻗَﺎﻝَ ﻧَﻌَﻢْ ﺣُﺠِّﻲ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖِ ﻟَﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺃُﻣِّﻚِ ﺩَﻳْﻦٌ ﺃَﻛُﻨْﺖِ ﻗَﺎﺿِﻴَﺔً ﺍﻗْﻀُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺎﻟﻠَّﻪُ ﺃَﺣَﻖُّ ﺑِﺎﻟْﻮَﻓَﺎﺀِ ‏»
অর্থ: ‘‘ জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা হজ্জ করার মানত করেছিলেন কিন্তু তিনি হজ্জ সম্পাদন না করেই মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তোমার কি ধারণা যদি তোমার মার উপর ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না ? সুতরাং আল্লাহর জন্য তা আদায় কর। কেননা আল্লাহর দাবী পরিশোধ করার অধিক উপযোগী’’ [সহীহ বুখারী: ১৮৫২]
তবে মা-বাবার পক্ষ থেকে যে লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ করতে হবে।
৫. মা-বাবার ওসিয়ত পূর্ণ করাঃ
মা-বাবা শরীয়াহ সম্মত কোন ওসিয়ত করে গেলে তা পূর্ণ করা সন্তানদের উপর দায়িত্ব। রাশীদ ইবন সুয়াইদ আসসাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
‏« ﻗُﻠْﺖُ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﺇِﻥَّ ﺃُﻣِّﻲ ﺃَﻭْﺻَﺖْ ﺃَﻥْ ﻧُﻌْﺘِﻖُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺭَﻗَﺒَﺔً ، ﻭَﻋِﻨْﺪِﻱ ﺟَﺎﺭِﻳَﺔٌ ﺳَﻮْﺩَﺍﺀُ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺍﺩْﻉُ ﺑِﻬَﺎ ، ﻓَﺠَﺎﺀَﺕْ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻣَﻦْ ﺭَﺑُّﻚِ ؟ ﻗَﺎﻟَﺖِ : ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻣَﻦْ ﺃَﻧَﺎ ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻋْﺘِﻘْﻬَﺎ ، ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﻣُﺆْﻣِﻨَﺔٌ ‏» .
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা একজন দাসমুক্ত করার জন্য ওসিয়ত করে গেছেন। আর আমার নিকট কালো একজন দাসী আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ডাকো, সে আসল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার রব কে ? উত্তরে সে বলল, আমার রব আল্লাহ। আবার প্রশ্ন করলেন আমি কে ? উত্তরে সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও; কেন না সে মু’মিনা । [সহীহ ইবন হিববান :১৮৯]
৬. মা-বাবার বন্ধুদের সম্মান করাঃ
মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সম্মান করা, তাদেরকে দেখতে যাওয়া,তাদেরকে হাদিয়া দেয়া। এ বিষয়ে হাদীসে উল্লেখ আছে,
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺃَﻥَّ ﺭَﺟُﻼً ﻣِﻦَ ﺍﻷَﻋْﺮَﺍﺏِ ﻟَﻘِﻴَﻪُ ﺑِﻄَﺮِﻳﻖِ ﻣَﻜَّﺔَ ﻓَﺴَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺣَﻤَﻠَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺣِﻤَﺎﺭٍ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﻛَﺒُﻪُ ﻭَﺃَﻋْﻄَﺎﻩُ ﻋِﻤَﺎﻣَﺔً ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺃْﺳِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻓَﻘُﻠْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﺃَﺻْﻠَﺤَﻚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻧَّﻬُﻢُ ﺍﻷَﻋْﺮَﺍﺏُ ﻭَﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺮْﺿَﻮْﻥَ ﺑِﺎﻟْﻴَﺴِﻴﺮِ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﺃَﺑَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻭُﺩًّﺍ ﻟِﻌُﻤَﺮَ ﺑْﻦِ ﺍﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ ﻭَﺇِﻧِّﻰ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻳَﻘُﻮﻝُ ‏« ﺇِﻥَّ ﺃَﺑَﺮَّ ﺍﻟْﺒِﺮِّ ﺻِﻠَﺔُ ﺍﻟْﻮَﻟَﺪِ ﺃَﻫْﻞَ ﻭُﺩِّ ﺃَﺑِﻴﻪِ ‏» .
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার রাদিয়াল্লাহু আনহু আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, একবার মক্কার পথে চলার সময় আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক বেদুঈন এর সাথে দেখা হলে তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাকে সে গাধায় চড়ালেন যে গাধায় আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর (আব্দুল্লাহ) মাথায় যে পাগড়িটি পরা ছিলো তা তাকে প্রদান করলেন। আব্দুল্লাহ ইবান দীনার রাহেমাহুল্লাহ বললেন, তখন আমরা আব্দুল্লাহকে বললাম: আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুক! এরা গ্রাম্য মানুষ: সামান্য কিছু পেলেই এরা সন্তুষ্ট হয়ে যায়-(এতসব করার কি প্রয়োজন ছিলো?) উত্তরে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তার পিতা, (আমার পিতা) উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বন্ধু ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি “পুত্রের জন্য পিতার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভাল ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় সওয়াবের কাজ’’ [সহীহ মুসলিম:৬৬৭৭]।
মৃতদের বন্ধুদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমলও আমাদেরকে উৎসাহিত করে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
‏« ﺇِﺫَﺍ ﺫَﺑَﺢَ ﺍﻟﺸَّﺎﺓَ ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ ‏« ﺃَﺭْﺳِﻠُﻮﺍ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﺻْﺪِﻗَﺎﺀِ ﺧَﺪِﻳﺠَﺔَ ‏»
অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোন বকরী যবেহ করতেন, তখনই তিনি বলতেন, এর কিছু অংশ খাদীজার বান্ধবীদের নিকট পাঠিয়ে দাও [সহীহ মুসলিম: ৬৪৩১]
৭. মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখাঃ
সন্তান তার মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻣَﻦْ ﺃَﺣَﺐَّ ﺃَﻥْ ﻳَﺼِﻞَ ﺃَﺑَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻗَﺒْﺮِﻩِ ، ﻓَﻠْﻴَﺼِﻞْ ﺇِﺧْﻮَﺍﻥَ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ‏»
‘যে ব্যক্তি তার পিতার সাথে কবরে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ভালবাসে, সে যেন পিতার মৃত্যুর পর তার ভাইদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখে’ [সহীহ ইবন হিববান:৪৩২]
৮. ঋণ পরিশোধ করাঃ
মা-বাবার কোন ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা সন্তানদের উপর বিশেষভাবে কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের পরিশোধ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻧَﻔْﺲُ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻣُﻌَﻠَّﻘَﺔٌ ﺑِﺪَﻳْﻨِﻪً ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﻘْﻀَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ‏» .
অর্থ: ‘‘মুমিন ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে যায়; যতক্ষণ তা তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়”। [সুনান ইবন মাজাহ:২৪১৩]
ঋণ পরিশোধ না করার কারণে জান্নাতের যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়; এমনকি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদও হয় । হাদীসে আরো এসেছে,
‏« ﻣَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﻘْﻀَﻰ ﺩَﻳْﻨُﻪُ ‏»
অর্থ: যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দার ঋণ পরিশোধ না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। [নাসায়ী ৭/৩১৪; তাবরানী ফিল কাবীর ১৯/২৪৮; মুস্তাদরাকে হাকিম ২/২৯]
৯. কাফফারা আদায় করাঃ
মা-বাবার কোন শপথের কাফফারা,ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ করবে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে,
﴿ﻭَﻣَﻦ ﻗَﺘَﻞَ ﻣُﺆۡﻣِﻨًﺎ ﺧَﻄَٔٗﺎ ﻓَﺘَﺤۡﺮِﻳﺮُ ﺭَﻗَﺒَﺔٖ ﻣُّﺆۡﻣِﻨَﺔٖ ﻭَﺩِﻳَﺔٞ ﻣُّﺴَﻠَّﻤَﺔٌ ﺇِﻟَﻰٰٓ ﺃَﻫۡﻠِﻪِۦٓ ﺇِﻟَّﺂ ﺃَﻥ ﻳَﺼَّﺪَّﻗُﻮﺍْۚ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ : ٩٢ ‏]
অর্থ: যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তাহলে একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা (ক্ষমা) করে দেয় (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা) [ সূরা আন-নিসা:৯২]
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻣَﻦْ ﺣَﻠَﻒَ ﻋَﻠَﻰ ﻳَﻤِﻴﻦٍ ﻓَﺮَﺃَﻯ ﻏَﻴْﺮَﻫَﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻓَﻠْﻴَﺄْﺗِﻬَﺎ ﻭَﻟْﻴُﻜَﻔِّﺮْ ﻋَﻦْ ﻳَﻤِﻴﻨِﻪِ ‏» .
অর্থ: ‘‘ যে ব্যক্তি কসম খেয়ে শপথ করার পর তার থেকে উত্তম কিছু করলেও তার কাফফারা অদায় করবে’’ [সহীহ মুসলিম: ৪৩৬০] ।
এ বিধান জীবিত ও মৃত সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। দুনিয়ার বুকে কেউ অন্যায় করলে তার কাফফারা দিতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ অন্যায় করে মারা গেলে তার পরিবার-পরিজন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা প্রদান করবেন।
১০. ক্ষমা প্রার্থনা করাঃ
মা-বাবার জন্য আল্লাহর নিকট বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। সন্তান মা-বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। হাদীসে বলা হয়েছে,
‏« ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ : ﺗُﺮْﻓَﻊُ ﻟِﻠْﻤَﻴِّﺖِ ﺑَﻌْﺪَ ﻣَﻮْﺗِﻪِ ﺩَﺭَﺟَﺘُﻪُ . ﻓَﻴَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﻱْ ﺭَﺏِّ ، ﺃَﻱُّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻫَﺬِﻩِ ؟ ﻓَﻴُﻘَﺎﻝُ : ﻭَﻟَﺪُﻙَ ﺍﺳْﺘَﻐْﻔَﺮَ ﻟَﻚَ ‏»
অর্থ: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত্যুর পর কোন বান্দাহর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে হে আমার রব, আমি তো এতো মর্যাদার আমল করিনি, কীভাবে এ আমল আসলো ? তখন বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় এ মর্যাদা তুমি পেয়েছো’’ [আল-আদাবুল মুফরাদ:৩৬]।
মা-বাবা দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়ে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
‏« ﻋَﻦْ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻭَﻗَﻒَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﻗَﺒْﺮِ ﺭَﺟُﻞٍ ﻭَﻫُﻮَ ﻳُﺪْﻓَﻦُ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻓَﺮَﻍَ ﻣِﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﺍ ﻷَﺧِﻴﻜُﻢْ ﻭَﺳَﻠُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻪُ ﺑﺎﻟﺜَّﺒَﺎﺕِ ؛ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻳُﺴْﺄَﻝُ ﺍﻵﻥَ ‏» .
অর্থ: উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়ালেন এবং বললেন ‘‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য ঈমানের উপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে’’ [মুসনাদুল বাজ্জার :৪৪৫]।
তাই সুন্নাত হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে দেয়ার পর তার কবরের পার্শ্বে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেয়া, প্রশ্নোত্তর দিতে সমর্থ হওয়ার জন্য দো‘আ করা।
১১. মান্নত পূরণ করাঃ
মা-বাবা কোন মান্নত করে গেলে সন্তান তার পক্ষ থেকে পূরণ করবে। ইবন আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে,
‏« ﺃَﻥَّ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻧَﺬَﺭَﺕْ ﺃَﻥْ ﺗَﺼُﻮﻡَ ﺷَﻬْﺮًﺍ ﻓَﻤَﺎﺗَﺖْ ﻓَﺄَﺗَﻰ ﺃَﺧُﻮﻫَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏« ﺻُﻢْ ﻋَﻨْﻬَﺎ ‏» .
অর্থ: কোন মহিলা রোজা রাখার মান্নত করেছিল, কিন্তু সে তা পূরণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করল। এরপর তার ভাই এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বলরেন, তার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন কর। [সহীহ ইবন হিববান:২৮০]
১২. মা-বাবার ভাল কাজসমূহ জারী রাখাঃ
মা-বাবা যেসব ভাল কাজ অর্থাৎ মসজিদ তৈরী করা, মাদরাসা তৈরী করা, দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরীসহ যে কাজগুলো করে গিয়েছেন সন্তান হিসাবে তা যাতে অব্যাহত থাকে তার ব্যবস্থা করা। কেননা এসব ভাল কাজের সওয়াব তাদের আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। হাদীসে এসেছে,
‏« ﻣَﻦْ ﺩَﻝَّ ﻋَﻠَﻰ ﺧَﻴْﺮٍ ﻓَﻠَﻪُ ﻣِﺜْﻞُ ﺃَﺟْﺮِ ﻓَﺎﻋِﻠِﻪِ ‏»
‘‘ভাল কাজের পথপ্রদর্শনকারী এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে’’। [সুনান আততিরমীযি : ২৬৭০]
‏« ﻣَﻦْ ﺳَﻦَّ ﻓِﻰ ﺍﻹِﺳْﻼَﻡِ ﺳُﻨَّﺔً ﺣَﺴَﻨَﺔً ﻓَﻠَﻪُ ﺃَﺟْﺮُﻫَﺎ ﻭَﺃَﺟْﺮُ ﻣَﻦْ ﻋَﻤِﻞَ ﺑِﻬَﺎ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻘُﺺَ ﻣِﻦْ ﺃُﺟُﻮﺭِﻫِﻢْ ﺷَﻰْﺀٌ ‏»
যে ব্যক্তির ইসলামের ভাল কাজ শুরু করল, সে এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে। অথচ তাদেও সওয়াব থেকে কোন কমতি হবে না’’ [সহীহ মুসলিম:২৩৯৮]।
১৩. কবর যিয়ারত করাঃ
সন্তান তার মা-বাবার কবর যিয়ারত করবে। এর মাধ্যমে সন্তান এবং মা-বাবা উভয়ই উপকৃত হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻛُﻨْﺖُ ﻧَﻬَﻴْﺘُﻜُﻢْ ﻋَﻦْ ﺯِﻳَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟْﻘُﺒُﻮﺭِ ﻓَﻘَﺪْ ﺃُﺫِﻥَ ﻟِﻤُﺤَﻤَّﺪٍ ﻓِﻰ ﺯِﻳَﺎﺭَﺓِ ﻗَﺒْﺮِ ﺃُﻣِّﻪِ ﻓَﺰُﻭﺭُﻭﻫَﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻬَﺎ ﺗُﺬَﻛِّﺮُ ﺍﻵﺧِﺮَﺓَ ‏»
অর্থ: আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম,অত:পর মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন তোমরা কবর যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয় [সুনান তিরমীযি :১০৫৪]।
যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয় [সুনান তিরমীযি :১০৫৪]।
কবর যিয়ারত কোন দিনকে নির্দিষ্ট করে করা যাবে না। কবর যিযারত করার সময় বলবে,
‏« ﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺪِّﻳَﺎﺭِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻜُﻢْ ﻻَﺣِﻘُﻮﻥَ ، ﻧَﺴْﺄَﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻟَﻜُﻢُ ﺍﻟْﻌَﺎﻓِﻴَﺔَ ‏» .
অর্থ: কবরবাসী মুমিন-মুসলিম আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক । নিশ্চয় আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর কাছে আপনাদের এবং আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। [সুনান ইবন মাজাহ :১৫৪৭]
১৪. ওয়াদা করে গেলে তা বাস্তবায়ন করাঃ
মা-বাবা কারো সাথে কোন ভাল কাজের ওয়াদা করে গেলে বা এমন ওয়াদা যা তারা বেচে থাকলে করে যেতেন, সন্তান যথাসম্ভব তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,
ﻭَﺃَﻭۡﻓُﻮﺍْ ﺑِﭑﻟۡﻌَﻬۡﺪِۖ ﺇِﻥَّ ﭐﻟۡﻌَﻬۡﺪَ ﻛَﺎﻥَ ﻣَﺴُۡٔﻮﻟٗﺎ ٣٤ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺳﺮﺍﺀ : ٣٤
অর্থ: আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। [ সূরা বনী ইসরাঈল:৩৪]
১৫.কোন গুনাহের কাজ করে গেলে তা বন্ধ করাঃ
মা-বাবা বেচে থাকতে কোন গুনাহের কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা বন্ধ করবে বা শরীয়াহ সম্মতভাবে সংশোধন করে দিবে। কেননা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‏« ﻭَﻣَﻦْ ﺩَﻋَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺿَﻼَﻟَﺔٍ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣِﻦَ ﺍﻹِﺛْﻢِ ﻣِﺜْﻞُ ﺁﺛَﺎﻡِ ﻣَﻦْ ﺗَﺒِﻌَﻪُ ﻻَ ﻳَﻨْﻘُﺺُ ﺫَﻟِﻚَ ﻣِﻦْ ﺁﺛَﺎﻣِﻬِﻢْ ﺷَﻴْﺌًﺎ ‏» .
এবং যে মানুষকে গুনাহের দিকে আহবান করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ গুনাহ তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের গুনাহ থেকে কোন কমতি হবে না’’ [সহীহ মুসলিম:৬৯৮০]।
১৬.মা-বাবার পক্ষ থেকে মাফ চাওয়াঃ
মা-বাবা বেচে থাকতে কারো সাথে খারাপ আচরণ করে থাকলে বা কারো উপর যুলুম করে থাকলে বা কাওকে কষ্ট দিয়ে থাকলে মা-বাবার পক্ষ থেকে তার কাছ থেকে মাফ মাফ চেয়ে নিবে অথবা ক্ষতি পূরণ দিয়ে দিবে। কেননা হাদীসে এসেছে,
‏« ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ : ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﺪْﺭُﻭﻥَ ﻣَﻦِ ﺍﻟْﻤُﻔْﻠِﺲُ ؟ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﺍﻟْﻤُﻔْﻠِﺲُ ﻓِﻴﻨَﺎ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﻦْ ﻻَ ﺩِﺭْﻫَﻢَ ﻟَﻪُ ، ﻭَﻻَ ﻣَﺘَﺎﻉَ ﻟَﻪُ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ﺍﻟْﻤُﻔْﻠِﺲُ ﻣِﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺑِﺼَﻼَﺗِﻪِ ﻭَﺻِﻴَﺎﻣِﻪِ ﻭَﺯَﻛَﺎﺗِﻪِ ، ﻓَﻴَﺄْﺗِﻲ ﻭَﻗَﺪْ ﺷَﺘَﻢَ ﻫَﺬَﺍ ، ﻭَﺃَﻛَﻞَ ﻣَﺎﻝَ ﻫَﺬَﺍ ، ﻭَﺳَﻔَﻚَ ﺩَﻡَ ﻫَﺬَﺍ ﻭَﺿَﺮَﺏَ ﻫَﺬَﺍ ، ﻓَﻴَﻘْﻌُﺪُ ، ﻓَﻴُﻌْﻄَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﻣِﻦْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺗِﻪِ ، ﻭَﻫَﺬَﺍ ﻣِﻦْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺗِﻪِ ، ﻓَﺈِﻥْ ﻓَﻨِﻴَﺖْ ﺣَﺴَﻨَﺎﺗُﻪُ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳُﻌْﻄِﻲَ ﻣَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃُﺧِﺬَ ﻣِﻦْ ﺧَﻄَﺎﻳَﺎﻫُﻢْ ، ﻓَﻄُﺮِﺡَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺛُﻢَّ ﻃُﺮِﺡَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ‏» .
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান নিঃস্ব ব্যক্তি কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নাই সে হলো গরীব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরীব যে, কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে সেদিন তার নেক আমল নামা দিয়ে দেয়া হবে। এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [সুনান আততিরমিযি :২৪২৮]
সুতরাং এ ধরনের নিঃস্ব ব্যক্তিকে মুক্ত করার জন্য তার হকদারদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া সন্তানের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
অল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে মা বাবার জন্য আমলগুলো করার তাওফীক দিন। আমীন!
ﻭﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻧﺒﻴﻨﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﻭﻋﻠﻲ ﺍﻟﻪ ﻭﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ﻭﻣﻦ ﺗﺒﻌﻬﻢ ﺑﺈﺣﺴﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺪﻳﻦ - ﻭﺃﺧﺮ ﺩﻋﻮﺍﻧﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ

 
back to top