আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস্ সালাতু ওয়াস্ সালামু আলা রাসূলিল্লাহ। আম্মাবাদঃএমন কিছু মানুষ রয়েছে যারা কিয়ামত দিবসে দয়াময় আল্লাহর সুদৃষ্টি থেকে বঞ্ছিত থাকবে, তিনি তাদের দিকে তাকাবেন না আর না তাদের প্রতি সুনজর দিবেন। তাদের সংখ্যা অনেক। [আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাদেরকে এই বঞ্ছিতের অনিষ্ট থেকে হেফাযতে রাখেন, এর কারণ থেকে দূরে রাখেন এবং সেই বঞ্ছিত সম্প্রদায় থেকেও দূরে রাখেন।]
১-যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ও শপথকে সামান্য বিনিময়ে বিক্রয় করেঃআল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখেরাতের কোন অংশই পাবে না এবং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না, বস্তুতঃ তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [আল্ ইমরান/৭৭] এই আয়াতে মিথ্যা কসম করা হারাম এর প্রমাণ রয়েছে, যা মানুষ সামান্য পর্থিব লাভেরজন্যে করে থাকে। উলামাগণ এই কসম কে আল্ ইয়ামীন আল্ গামূস বা ডুবানোর কসম আখ্যা দিয়েছেন কারণ; তা এই কসমকারীকে পাপে ডুবায় অতঃপর জাহান্নামে। [আল্লাহই আশ্রয়দাতা]২- গিঁটের (টাখনুর) নিচে বস্ত্র পরিধানকারী।৩-মিথ্যা কসম দিয়ে পণ্য বিক্রয়কারী।৪- কারো উপকার করে তাকে উপকারের খোটা দাতা। আবু হুরাইরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “ তিন প্রকার এমন লোক রয়েছে, যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না আর না কেয়ামতের দিন তাদের দিকে দেখবেন আর না তাদের পবিত্র করবেন বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি”। আমি (আবু হুরাইরা) বললামঃ আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ“গিঁটের বা টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা কসম দিয়ে বিক্রয়কারী এবং কাউকে কিছু দান করার পর তার খোটাদাতা”। [মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৪]গিঁটের নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরিধানকারী হচ্ছে, সেই ব্যক্তি যে তার লুঙ্গি ও কাপড় এত ঝুলিয়ে পরে যে তার দুই গিঁটের নিচে চলে যায়। যদি সে অহংকার স্বরূপ এমন করে, তাহলে তার জন্য উপরোক্ত শাস্তির ঘোষণা কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ“আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না যে, তার লুঙ্গি অহংকার স্বরূপ ঝুলিয়ে পরে”। [বুখারী, নং৫৭৮৩/ মুসলিম] আর যে অহংকার স্বরূপ নয় বরং এমনি ঝুলিয়ে পরে, তাহলে তার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বাণী প্রযোজ্যঃ “লুঙ্গির যতটা গিঁটের নিচে থাকবে, ততটা জাহান্নামে যাবে”। [বুখারী,নং৫৭৮৭ ] এই ভাবে হাদীসগুলির মাঝে সমন্বয় সাধন হবে। আল্লাহই বেশী জানেন।পর্দার উদ্দেশ্যে মহিলাদের এক গজ ঝুলিয়ে পরা বৈধ কিন্তু এর বেশী করবে না।আর মিথ্যা শপথ করে সামগ্রী বিক্রয়কারী হচ্ছে, এমন ব্যক্তি যে মহান আল্লাহকে তুচ্ছকারী। তাই সে (আল্লাহার কসম দিয়ে) মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে লোকদের নিকট পণ্য বিক্রি করে।আর খোটাদাতা হচ্ছে, যে দান করার পর খোটা দেয়।৫- যে মুসাফিরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থেকে বাধা দেয়।৬-যে পার্থিব লাভের আশায় কোন মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে বায়আত (অঙ্গীকার) করে। আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন প্রকারের লোকের সাথে মহান আল্লাহ কিয়ামত দিবসে কথা বলবেন না, না তাদের দিকে তাকাবেন আর না তাদের পবিত্র করবেন; বরং তাদের জন্য রয়েছে শক্ত আযাব। ঐ ব্যক্তি যার নিকট র্নিজন প্রান্তরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থাকা সত্ত্বেও মুসাফিরকে তা ব্যবহার করা থেকে নিষেধ করে। আল্লাহ তাকে বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে আমার অতিরিক্ত (রহমত) থেকে বঞ্ছিত করবো, যেমন তুমি তোমার বিনা পরিশ্রমে অর্জিত অতিরিক্ত পানি থেকে বঞ্ছিত কেরেছ এবং সেই ব্যক্তি যে আসরের পর কোন ব্যক্তিকে তার সামগ্রী বিক্রয় করে। আল্লাহর কসম খেয়ে বলে আমি এটা এই এই দামেক্রয় করেছি। ক্রেতা তার কথা সত্য মনে করে তার কাছ থেকে পণ্য খরিদ করে অথচ সে সত্য নয়। আর সেই ব্যক্তি যে কোন মুসলিম ইমামের(রাষ্ট্রপরিচালকের) হাতে কেবল পার্থিব উদ্দেশ্যেই বাইআত (অঙ্গীকার) করলো; সে যা চায় যদি তাকে তা দেওয়া হয় তো অঙ্গীকার পূরণ করে, আর না দিলে ভঙ্গ করে। [বুখারী, নং ৭২১২/ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৭]মরুভূমীতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থেকে মুসাফিরকে বাধাদানকারীকে আল্লাহ তার কৃত কর্ম অনুযায়ী বদলা দিবেন। তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা আছে তার তুলনায় আল্লাহর রহমত ও ফযলের প্রয়োজন অনেক বেশী। আর যে দুনিয়া পাবার আশায় ইমামের হাতে বাইআতকরে, সে যেন এই অঙ্গীকারকে পার্থিব উদ্দেশ্যের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়। আর ইসলামের মূল বিধান শাষকের আনুগত্ব করা, তাকে সদুপদেশ দেওয়া, সাহায্য করা এবং ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা, এসবের অবজ্ঞা করে। সে মুসলিম শাষক ও ইমামদের প্রতারনাকারী স্পষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত।৭-বৃদ্ধ ব্যভিচারী।৮-মিথ্যুক বাদশাহ।৯-অহংকারী দরিদ্র।আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ আল্লাহ তাআ’লা কেয়ামত দিবসে তিন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলবেন না, আর না তাদের পবিত্র করবেন, না তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দিবেন, তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তিঃ বৃদ্ধ যেনাকারী, মিথ্যুক রাজা এবং অহংকারী দরিদ্র”। [মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং২৯৬] বিশেষ করে এদের সম্পর্কে উক্ত শাস্তির কারণ বর্ণনায় কাযী ইয়ায বলেনঃ “তাদের প্রত্যেকে উক্ত পাপ থেকে দূরে থাকার পরেও তা করে। যদিও কোনো পাপীর পাপের অজুহাত গ্রহণীয় নয়, কিন্তু একথা বলা যেতে পারে যে, উক্ত পাপ করার ক্ষেত্রে তাদের অতীব প্রয়োজন ছিল না আর না তাদের সচরাচর স্বাভাবিক কোনো অন্য কারণ ছিল। তা সত্ত্বেও তাদের উক্ত পাপে লিপ্ত হওয়াটা যেন আল্লাহর অধিকারকে তুচ্ছ মনে করা, বিরোধিতা করা এবং অন্য কোন কারণ নয় বরং স্রেফ পাপ করার উদ্দেশ্যেই তা করা”।১০- পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান।১১- নারী হয়ে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বণকারীনি।১২-দাইযূস।আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ তিন প্রকার লোকের দিকেআল্লাহ তাআ’লা কিয়ামতের দিনে দৃষ্টিপাত করবেন নাঃ পিতা-মাতার অবাধ্য, পুরুষের সদৃশ অবলম্বনকারীনি মহিলা এবং দাইয়ূস। আর তিন প্রকার লোক জান্নাতে যাবে নাঃ পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ পানে আসক্ত এবং অনুদানের পর খোটাদাতা” [মুসনাদ আহমদ, নং ৬১১/নাসাঈ]পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানের বিষয়টি স্পষ্ট, কারণ আল্লাহ তাআ’লা পিতা-মাতার অধিকারকে মর্যাদা দিয়েছেন, তিনি নিজ অধিকারকে তাদের অধিকারের সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং তাদের উভয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করার আদেশ করেছেন; যদিও তারা কাফের হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “ পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাদের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি”। [তিরমিযী, নং ১৯৬২, আলবানী সহীহ বলেছেন]পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বণকারীনি বলতে সেই মহিলাকে বুঝায় যে, পোষাক-পরিধানে, চাল-চলনে, কাজে-কর্মে এবং কথার শুরে পুরূষের অনুকরণ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বণকারী পুরূষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বণকারীনি মহিলাদের প্রতি অভিষাপ করেছেন”। [বুখারী] আর দাইয়ূস হচ্ছে, যে নিজ পরিবারে অশ্লীলতা প্রশ্রয় দেয়, তাদের সম্ভ্রম রক্ষায় আত্মসম্মানী নয়, সে মানবিকতাহীন, অপুরুষত্ব, অসুস্থ মস্তিষ্ক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী। তার তুলনা অনেকটা শুকরের মত, যে নিজ সম্ভ্রম রক্ষা করে না। তাই ঐ সকল লোককে সতর্ক থাকা উচিৎ যারা নিজ পরিবারে এবং তার দায়িত্বে থাকা লোকদের মাঝে অশ্লীলতা বা অশ্লীলতার উপকরণ প্রশ্রয় দেয়। যেমন বাড়িতে এমন টিভি চ্যানেল রাখা যা যৌনতা উষ্কে দেয় এবং অশ্লীলতা বৃদ্ধি করে।১৩- যে তার স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করেঃইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআ’লা সেই ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না যে, পুরুষের সাথে সঙ্গম করে কিংবা স্ত্রীর পায়ুপথে সঙ্গম করে”। [তিরিমিযী, নং১১৭৬ আলবানী সহীহ বলেছেন]আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “সে অভিশপ্ত যে স্ত্রীর পায়ু পথে সঙ্গম করে”। [আহমদ, আবু দাউদ, নং ২১৬২/ আলবানী সহীহ বলেছেন]
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
পুরুষেরা আসলে কি চায়?
যখন একজন মুসলিম পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজেন তখন কোন জিনিস গুলো তার মনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়?একটা কঠিন প্রশ্ন। কারণ যেটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা সেটা হল রাসুলুল্লাহ (স) যেটা শিখিয়ে দিয়েছেন, যেমন একজনধার্মিক নারী।কিন্তু এ সমাজে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে আমরা মিডিয়াতে যেভাবে নারীকে উপস্থাপিত হতে দেখি, সেটা আমাদের জীবন সঙ্গী সংক্রান্তচিন্তাগুলোকে প্রভাবিত করে। [www.pmuslimhome.wordpress.com] সুতরাং বাস্তবে প্রায় সব পুরুষই যখন তার জন্য একজন জীবন সঙ্গীকে খুঁজতে যান, তখন প্রথম যে জিনিসটি তাদের মাথায় আসে সেটা রাসুলুল্লাহ (স) যেটা আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছেন সেটা অবশ্যই নয়। সুতরাং অবশ্যই আপনি যখন পার্টনার খোঁজেন তখন শারীরিক ভাবে একজন আকর্ষণীয় নারীকেই খোঁজেন। এটাই প্রথম যা আপনার মনে স্থান পায়।আপনি যাকে পছন্দ করেন তাকে অন্য সবাই আকর্ষণীয় হিসেবে ভাবতে নাও পারে। কিন্তু আপনার চোখে তাঁকে শারীরিক ভাবে আকর্ষণীয় হিসেবে উপযুক্ত হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্যবশত পুরুষরা যা ই বলেন না কেন প্রায় সবাই সব কিছুর আগে শারীরিক সৌন্দর্যের দিকেই ঝুঁকে থাকেন।কিন্তু আমি এটাকে খারাপ বলে মনে করি না। বরং আপনাকে অন্য বিষয়গুলোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়যে একজন পুরুষ যদি দশজন আকর্ষণীয় নারীকে দেখেন, তাহলে তাদের মধ্য থেকে তাঁকে রাসুলুল্লাহ (স) এর শিক্ষা অনুযায়ী উপযুক্ত জনকে বেছে নিতে হবে।তার মানে, মূলত যদি কেউ সুন্দর হয় কেবল তখনই শুধু আপনি তার ধর্মীয় গুনাবলীর দিকে গুরুত্ব দিবেন?(হাসি!) হ্যাঁ! পাগলামিই বটে তাই না!না! আমি মনে করিনা যে এটা পাগলামি। আমি মনে করি এটাই স্বাভাবিক। অবশ্যই আপনি কিছু ধার্মিক নারীর মধ্য থেকে সবচেয়ে সুন্দরী একজন কে বেছে নিতে পারেন। তবে সেটা কিন্তু ঘটে না, সাধারণত আমরা (মেয়েরা) চাই সবাইই (ছেলেরা) ধার্মিক হোক। কিন্তু অনেক ছেলেদের ক্ষেত্রে কি ঘটে? যখন তারা একজন সুন্দরী নারীকে দেখে তারা জাস্ট আশা করে যে মেয়েটি ধার্মিক হবে। যদি সে ধার্মিকতাকেই প্রাধান্য দেয়ার প্রতি মনস্থ করে, তবুও সুন্দরী নারীর সাক্ষাৎ তাকে তার স্ট্যান্ডার্ডটাকে (ধার্মিকতার দিক থেকে) কমিয়ে দেয়, সে ধার্মিকতার দিকটায় ছাড় দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। সে ভাবতে থাকে যে সে মেয়েটিকে রিলিজিয়াস বানিয়ে নিতে পারবে।সুতরাং ধার্মিকতাটা যেহেতু এক ধরণের অদৃশ্যমান ব্যাপার সেহেতু আপনি কি এটা নিয়ে বড়জোর আশাই করতে পারেন?না! কারণ ধার্মিকতাটা অদৃশ্য কোনও ব্যাপার নয়। আমি মনে করি এক দিক দিয়ে এটা অদৃশ্যমান ব্যাপারও বটে, যেমন একজন মানুষের হৃদয়ের অকৃত্রিমতা, এটা কিন্তু অদৃশ্য ব্যাপার। কিন্তু অনেক পুরুষই যেটা করতে চেষ্টা করেন সেটা হল, তারা ভাবেন যে একজন সুন্দরী নারী মোটামুটি ধার্মিক হলেই বিয়ের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু তাদের জীবন অবশেষে একধরনের শূন্যতায় ভরে থাকে। তারা নিজদেরেকে বুঝায় “মেয়েটির মধ্যে সম্ভাবনা আছে” কিন্তু বাস্তবে সেটা আর ঘটে না, তখনি থমকে যান তারা পরিণত হন অতি কচলানোলেবুর মতো।আসলে এটা হতে বাধ্য, কারণ তারা ধার্মিকতার ব্যাপারে আপোষ করেছেন এবং সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এখন তাদেরকে সেটার উপরই কাজ করতে হবে। অতি-কচলানো লেবুর সাথে চিনি মিশিয়ে তাকে সুমিষ্ট বানানোর প্রচেষ্টা। পুরুষের পুরুষত্ব বাচক অহংবোধ নিজের ভুল গুলো স্বীকার করার চাইতে তাকে নিজের পছন্দমত সিদ্ধ্যান্ত নিতে প্রভাবিত করবে।কিন্তু আমরা যদি মুল প্রশ্নে ফিরে যাই, যে পুরুষরা আসলে কি চায়? সাধারণত আপনারা এমন নারী কে চান যে স্বাস্থ্য সচেতন এবং সে তার নিজের টেক কেয়ার করতে পারবে, যে তার শারীরিক অবয়বের প্রতি যত্নশীল হবে। আপনারা এমন কাউকে পছন্দ করবেন না যে দৃশ্যত কেয়ারই করে না কিছু। মানুষ তথা পুরুষ ও নারী উভয়েই স্বভাবতই দীর্ঘায়ুর প্রতি আসক্ত যাতে তারা সন্তান নিতে পারে এবং সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন করতে পারে।নিচের প্রশ্নোত্তর গুলোতে পুরুষরা কি চায় তা ফুটে উঠেছে: আপনার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলুন? আপনি একজন ধার্মিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে কি কি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?একজন সাথী… এমন একজন যিনি সংসারকে রাসুলুল্লাহর (স:) সুন্নাহর সাথে টিকিয়ে রাখবেন। কিন্তু সুন্নাহ বুঝার ক্ষেত্রে সম-মনষ্ক হওয়া ও ইমানের মৌলিক ভিত্তিটায় মিল থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার বিয়ে এবং ভবিষ্যতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ-কর্মকে আপনি সেই ভিত্তিটার উপরেই সাজাবেন।এখন এমন একটা প্রশ্ন করবো যা সম্পর্কে অধিকাংশ নারীরাই সচেতন: শারীরিক অন্তরঙ্গতা ও উপভোগ্যতার পাশাপাশি কোন জিনিসটিকেআপনি বিয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন?স্ত্রীর কাছে সবচেয়ে অভূতপূর্ব যে জিনিসটি একজন পুরুষ চাইতে পারে তা হল স্ত্রীর সহচর্য, সুন্দর চরিত্র, এবং সঠিক ভাবে সন্তানাদিকে প্রতিপালন করা। একজন পুরুষ হিসেবে আপনি বাইরে কাজে যাবেন পরিবার চালানোর জন্য। সুতরাং যখন আপনি কাজের জন্য বাইরে থাকেন তখন ঘরে এমন এক নারী থাকা যে কিনা আপনার সন্তানাদিকে শিক্ষা দিচ্ছে এবং প্রতিপালন করছে এটা সবচেয়ে বড় চাওয়া-পাওয়া গুলোর মধ্য অন্যতম।সহচর্য বলতে আপনি কি বুঝেন?এটা এমন, যে যখন আপনার একজন ভাই কিংবা বোন থাকে, যার সাথে আপনি বেড়ে উঠেন। এমনই একটা কিছু। যে সব সময় পাশে থাকে। আপনি যা কিছু করেন সে সবই পছন্দ করবে এমন না, কিন্তু আপনি যা করেন তা সে উপভোগ করে, কারণ একটাই, সেটা হল যে আপনি এটা করছেন। যেমন আমার স্ত্রী কিছু খাবার খেতে শুরু করার আগে আমি সেগুলো পছন্দ করতাম না। তাঁকে দেখে আমি সেগুলো পছন্দ করতে শুরু করি, আমি চিন্তা করলাম ট্রাই করে দেখিনা কেন? এটাই সত্যিকার সহচর্যের সবচেয়ে উপভোগ্য দিক। এমন কিছু জিনিস কে পছন্দ করা, কারণ আপনার প্রিয়জন সেটা পছন্দ করে। যখন আপনি আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সাথে কিছু করেন তখন কিছু কাজ যেমন একসাথে খাওয়া এমনকি একসাথে রান্না করাটাও অনেক উপভোগ্য হয়ে উঠে।তাহলে নারীর ব্যক্তিগত অর্জনের ব্যাপারটা কেমন? [www.pmuslimhome.wordpress.com] এটা কি পুরুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এই ব্যাপারটিতে পুরুষদের মধ্যে সব রকমের মতামতই পাওয়া যায়। কেউ চায় এমন নারী যার অর্জন (শিক্ষা, প্রফেশনাল এচিভমেন্ট ইত্যাদি) খুব ভালো। কেউ এমন নারী চায় যাকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কেউ চায় এমন নারী যার কোনও উচ্চাভিলাষ (ambitions) নেই। এটা হচ্ছে পুরুষের দুর্বলতা, কারণ রাসুলুল্লাহ (স) পরিবারে নিয়ন্ত্রক ছিলেন না এবং তার স্ত্রীগন ছিলেন খুবই উচ্চাভিলাষী (ambitious)। যদি আমরা হযরত আয়িশা (রা) ও খাদিজা (রা) এর দিকে তাকাই আমরা তাদের মধ্যে উচ্চাভিলাষের অভাব দেখি না। তারা খুবই বুদ্ধিমতী ও সুদক্ষ ছিলেন।কিন্তু কেন পুরুষরা উচ্চাভিলাষহীন স্ত্রী চাইবে?সম্ভবত তারা এটা করে নিজেকে শক্তিশালী ভাবতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই মানসিকতাটা বুঝতে পারি না। আমার বেলায়,আমি চাই যখন আমি ঘরে ফিরি তখন আমার স্ত্রী ঘরে থাকবে আমাকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য। সে আমার দেখ-ভাল করে এটা আমি ভালবাসিএবং এটা পুরুষের অন্তরাত্মায় প্রশান্তি এনে দেয়। এটা আমাকে শক্তি যোগায় যে আমার স্ত্রী আমাকে সম্মান ও ভালোবাসার পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সেটা প্রকাশ্য কাজের মাধ্যমে ব্যক্ত করছে। এটা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের সৃষ্টি করে।আপনি কি মনে করেন যে আপনার স্ত্রী তার অর্জনের/সফলতা/ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে কি করলো বা না করলো সেটায় আসলে তেমন কিছুই আসে যায় না? তবে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল সে আপনার জন্য কি করছে সেটা?না, সবার জন্য ব্যাপারটা সমান না। অনেকে তার স্ত্রীর সফলতা বা অর্জন দেখে খুশি হয় এবং তারা খুব হেল্পিং হয়। বিশেষ করে তার স্ত্রী যেটা করছে সেটা যদি মুসলিম কমিউনিটির জন্য ভালো কিছু হয়।আপনি যখন অফিস বা কাজ শেষে ফিরেন এবং ঘরে প্রবেশ করার জন্য দরজা খোলার মুহূর্তে কোন জিনিসটির জন্য আপনি মুখিয়ে থাকেন? পুরুষেরা সাধারণত উত্তর দেয় যে “ঘরে ফিরে আমি হাসিমুখে সম্ভাষণ পেতে পছন্দ করি। আমি এসে ঘরটা গোছালো ও সুন্দর ঘ্রানময় দেখতে পছন্দ করি। আমি দেখতে চাই আমার স্ত্রীকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে, আমি তার মধ্যে সুন্দর পারফিউমের গন্ধ পেতে চাই। আমিঘরে ফিরে রিল্যাক্সে থাকতে চাই। আমি ঘরে ফিরে আমার স্ত্রীকে কুরআন পাঠরত দেখতে পছন্দ করি। ঘরে ফিরে আমার স্ত্রীকে তার পছন্দের কাজে নিমগ্ন দেখতে পছন্দ করি।”নারীর ভূমিকার ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন?অনেকেই এটা বলতে বুঝে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এবং রান্না-বান্নাকে। কিন্তু সত্যি বলতে কি, নারীর ভূমিকা বলতে আমি কখনও এমনটি ভাবিনি। তবে অবশ্যই একজন ভালো নারী রান্নাটা ভাল করবে। আপনাকে সুখী করতে সে স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করবে। কিন্তু আমি মনে করি না যে নারীর ভূমিকার জায়গাটা এটাই। আমি নারীকে সঙ্গী হিসেবেই দেখি। ব্যক্তিগতভাবে আমি রান্না করা পছন্দ করি। আমি এটা খুবই উপভোগ করি তাই আমিও রান্না করি।আপনার মতে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের সবচেয়ে বড় ভুলটি কি বলে আপনি মনে করেন?আসলে আমি মনে করি এটা এভাবে বলা গুরুত্বপূর্ণ যে “মানুষ ( শুধু নারী নয়) সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করে”, এর মধ্যে নারীও অন্তর্ভুক্ত। আমি মনে করি ভুলটা হল আমরা অপরজনকে এমন ভাবে দেখি যেন সে একই জেন্ডারের মানুষ।এ ব্যাপারে পুরুষদের ভুলের উদাহরণ কি হতে পারে?পুরুষরা নারীদেরকে নিজেদের মতো করে ভাবতে আশা করে। পুরুষদের মধ্যে সোজাসাপ্টা মুল কথায় আসার একটা প্রবণতা কাজ করে অন্যদিকে মেয়েরা চায় তার কথাগুলো কেউ শুনুক। এটা সবারই জানা। ছেলেরা সবসময় মেয়েরা কথা বলার সময় মন্তব্য করে বসে, যেখানেতাদের শুধু শুনে যাওয়া উচিৎ। কিন্তু তারা সবকিছুর সমাধান দেয়ার চেষ্টা করে এবং প্রত্যেকটি সমস্যাকেই আক্রমণ করে থাকে।নারীদের ভুল সম্পর্কে কি বলবেন? জাস্ট পুরুষের বিপরীতটা। নারীরা অন্যান্য নারীদের ব্যাপারে যেভাবে চিন্তা করে পুরুষদের সম্পর্কেও সেভাবেই চিন্তা করে। আর পুরুষরাও যেভাবে অন্যান্য পুরুষদের ব্যাপারে চিন্তা করে সেভাবেই নারীদের ব্যাপারে চিন্তা করে। কারণ আমরা শুধু আমাদেরব্যাপারেই অভিজ্ঞ, যেমন মেয়েরা মেয়েদের ব্যাপারেই শুধু অভিজ্ঞ। আসলে মেয়েদের উচিৎ ছেলেদের ক্ষেত্রে ছেলেদের জায়গা হতে চিন্তা করা।
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
অন্তর (ক্বালব) কঠিন হয়ে যায় কেন?
মুসলিম উম্মাহ আজ যে সব মহাপরীক্ষা ও মহা মুছিবতে পতিত এবং কঠিন ও ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়েছে, তন্মধ্যে এমনই একটি রোগ হলো: অন্তর (ক্বালব) কঠিন হয়ে যাওয়া।নিম্নলিখিত কারণে ক্বালব বা অন্তর কঠিন হয়ে যায়:-১- নামাযের জামা‘আতে হাযির হওয়ার ব্যাপারে অবহেলা ও গাফলতি করা এবং মসজিদে সকাল সকাল না যাওয়া বরং দেরী করা।২- কুরআনকে পরিত্যাগ করা অর্থাৎ বিনয়-নম্রতা আর মনোযোগ এবং চিন্তা গবেষণাসহকারে কুরআন তেলাওয়াত না করা।৩- হারাম রুজি যেমন: সুদ, ঘুষ, মাল্টিপারপাস, ইন্স্যুরেন্স এবং বেচাকেনাসহ বিভিন্ন লেনদেনে প্রতারণা ও জালিয়াতি সহ অন্যান্য হারাম পদ্ধতিতে রুজি-রোজগার করার কারণে।৪- অহংকার, বড়াই, প্রতিশোধপরায়ণতা, মানুষের দোষ-ত্রুটি বা অপরাধকে মাফ না করা, মানুষকে অবহেলা করে নিকৃষ্ট মনে করা, মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা।৫- দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে ঝুঁকে পড়া, দুনিয়া দ্বারা প্রতারিত হওয়া এবং মৃত্যুকে, কবরকে এমনকি আখেরাতকে ভুলে যাওয়া।৬- যে কোনো বেগানা নারীর দিকে তাকানো হারাম; যা অন্তরকে কঠোর করে দেয়।৭- দাঁড়ি গজায়নি এখনো এমন সুন্দর ছেলের দিকে অযথা তাকানো হারাম; তাই সেটাও অন্তর কঠোর করে দেওয়ার অন্যতম কারণ।৮- আমি নিজে প্রতিদিন কি কি খারাপ কাজ করলাম? নিজের সমালোচনা নিজে না করা, বরং মানুষের সমালোচনা করা।৯- অনেক দিন দুনিয়ায় থাকবো, অনেক কিছুর মালিক হবো এমন ভুল ধারণা মনের ভিতর থাকা। ১০- আল্লার যিকির বেশী বেশী না করে বরং বেশী বেশী কথা বলা, বেশী বেশী হাসাহাসি-তামাশা এবং মশকারী বা মজাক করা।১১- বেশী খাওয়া-দাওয়া করা।১২- বেশী ঘুম যাওয়া।১৩- মানুষের উপর জুলুম করা।১৪- শরীয়তের কোনো আদেশ-নিষেধ লংঘন হওয়ার কারণ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে রাগ করা।১৫- ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত কাফেরের দেশ ভ্রমণে বের হওয়া।১৬- মিথ্যা, গীবত (পরচর্চা) এবং একজনের কথা অন্যের নিকট গিয়ে বলার মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করা।১৭- খারাপ মানুষের সাথে উঠাবসাও চলাফেরা করা।১৮- অন্য মুসলিমকে মনে মনে অথবা প্রকাশ্য হিংসা করা।১৯- একজন মুসলিমের উন্নতি সহ্য করতে না পারা, বরং তার ধ্বংস কামনা করা।২০- অন্য মুসলিম ভাইয়ের সাথে শত্রুতা করা, ঘৃণা করা এবং তাকে অপছন্দ করা।২১- আপনার নিজের বা মুসলিম ভাইয়ের কোনো লাভ বা ফায়েদা ব্যতীত নিজের ও অপরের সময় নষ্ট করা।২২- ইসলামী জ্ঞান শিক্ষা না করা এবং ইসলামী শিক্ষা হতে নিজকে দূরে সরিয়ে রাখা।২৩- জাদুকর, গণক, জোতিষী, তন্ত্রমন্ত্রকারীর নিকট যাওয়া।২৪- মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য, বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা, লতা ওয়ালা হুক্কা সহ যাবতীয় তামাক ও তামাকজাত এবং ক্ষতিকর দ্রব্য পান করা।২৫- সকাল-সন্ধ্যার যিকরসমুহ পাঠ না করা।২৬- গান শোনা, যাবতীয় স্বল্পবসনা, চরিত্রহীন হারাম ফিল্ম দেখা, পতিত/ চটি পত্রিকা ম্যাগাজিন পাঠ করা।২৭- আল্লাহর নিকট সর্বদা গুরুত্বসহকারে দো‘আ না করা।