মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ইসলামে মাতৃভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গ : একটি পর্যালোচনা

0 Comments

বাংলা ১৩৫৯ সালের ৮ ফাল্গুন। যা আজ ৬১ বছর ধরে এ দেশ মাতৃকায় একুশে ফেব্রুয়ারি নামে ভাষা আন্দোলনের স্মরণ দিবস হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গাম্ভীর্যের সাথে উদযাপিত হয়ে আসছে। ১৯৯৯ সাল থেকে এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসহিসেবে পালিত হচ্ছে। মাতৃভাষা ব্যবহার এবং তার মর্যাদা রক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন হয়েছে এবং হচ্ছে। যথা তুরস্ক, বুলগেরিয়া, মধ্যএশিয়ার অঞ্চলসমূহ এবং ভারতের উত্তর প্রদেশ কিন্তু ভাষার জন্য রক্তদান বা নিহত হওয়ার ঘটনা বেল বাংলাদেশেই ঘটেছে। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার দীপ্ত শপথ নিয়ে বাংলার কিছু অকুতোভয় বীর সন্তান নিজেদের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েরচনা করে এক সূর্যস্নাত রক্তিম ইতিহাস। যা ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্যকে আরো গভীরে নিয়ে গেছে। অথচ এখানে একটি প্রশ্ন প্রায়ই অনেকের মনে দোলা দেয়, একটি ভাষা নিয়ে সমাজ পরিবেশ এতো উত্তেজিত করা বা আন্দোলনে যাওয়া এদেশবাসী মুসলিম হিসেবে ইসলামের দৃষ্টিতে কতটুকু মাননাসই? ইসলাম কি কোন ভাষার উৎকর্ষ সাধনের জন্য আন্দোলন চালাতে এসেছে? ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে ইসলামের ভূমিকা কী? এ নিয়ে অত্র আলোচনার অবতারণা।ভাষা শব্দের অর্থমনের ভাব প্রকাশের ভঙ্গিই ভাষা। তা কণ্ঠধ্বনির মাধ্যমে হোক বা অন্য কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গর ইশারার মাধ্যমে হোক। ভাষার সংজ্ঞা প্রদানে ড. রামেশ্বর বলেন : ‘‘মানুষের বাকযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত কতকগুলো ধ্বনিগত ভাব সংকেত বা প্রতীক সমষ্টির নাম।’’[1]ভাষার সংজ্ঞা প্রদানে Henry Sweet বলেন : “Language is the expression of ideas by means of speech-sounds combined into words. Words are combined into sentences, this combination answering to that of ideas into thoughts.[2]ভাষাবিজ্ঞানী Edgar. H. Sturtevant বলেন : “A language is a system of arbitrary vocal symbols by which members of a social group Co-operate and interect.[3]
মানুষ সামজিক জীব। এজন্য তাকে অন্য মানুষের সাথে ভাব বিনিময় করতে হয়। এভাবে বিনিময়ের জন্য যে সব সংকেত প্রতীক ব্যবহৃত হয় তাই ভাষা, এভাবে বিশ্লেষণ করলে ভাষার চারটি মূল বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়: ক. এ কতগুলি ধ্বনির সমষ্টি, খ. এ ধ্বনি কণ্ঠনিঃসৃত, গ. এটি একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থা, ঘ. এ ধ্বনিগুলো বস্ত্ত বা ভাবের প্রতীক।[4]ভাষার সংজ্ঞা প্রদানে আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ বলেন : ভাষা হচ্ছে মানুষের ভাব বিনিময় ও প্রকাশের প্রতীকী প্রত্যয় বিশেষ।এটি ধ্বনি ও ইশারা ও ইঙ্গিত উভয়কেই অন্তর্ভূক্ত করে। তবে পারিভাষিক অর্থে কারো কণ্ঠনিঃসৃত অর্থবোধক ধ্বনিকেই ভাষা নামে অভিহিত করা হয়।[5]আন্দোলন শব্দের অর্থ‘আন্দোলন’ শব্দটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘‘একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য প্রচার বা আলোচনা দ্বারা উত্তেজনা সৃষ্টিকরণকেই আন্দোলন বলে।[6]সুতরাং ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে ইসলামে ভূমিকা কী? তা নির্ভর করে ভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্যের উপর।বাংলাভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক ধারণা থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথমত মূল উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষা ব্যবহার এবং তার সার্বিক উৎকর্ষ সাধন ও চর্চা করার অধিকার আদায় করা। এছাড়া পূর্ববর্তী রাজাদের বিভিন্ন যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, এটি বৌদ্ধ যুগের পর ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী সেন রাজারা বাংলাভাষা চর্চা নিষিদ্ধ করেছিল। আর হিন্দু পুরোহিতরা এ কথা বলে বেড়াতো যে, যে ব্যক্তি বাংলাভাষায় কথা বলবে সে নরকে যাবে। তেমনি বৃটিশ ইংরেজরাও ইংরেজি ভাষা ও তাদের সংস্কৃতি এতদঞ্চলে চাপিয়ে দেয়ার চরম ষড়যন্ত্র করেছিল।[7]বাঙ্গালী মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নির্বিশেষে সকল ধর্মের বুদ্ধিজীবীরা সে নিষেদাজ্ঞা এবং ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বাংলাভাষায় বিবিধ সাহিত্য রচনা করে এ ভাষারভান্ডার বিবিধ রতনে সমৃদ্ধ করেন। অতঃপর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের প্রাক্কালে তৎকালীন বিশ্বরাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চীন ও রাশিয়ার স্টাইলে ভাষাগত ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদঢ় করার লক্ষ্যে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ও তাদের তোষণকারী অনুসারীরা উর্দূকে জাতীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল ভাষাতত্ত্বের এক ভুল ব্যাখ্যার ছত্রছায়ায়।তারই প্রতিবাদে বাংলাভাষা আন্দোলন নতুনরূপে বেগবান হয় মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য।[8]বাংলাভাষার জন্য আন্দোলনের অপর একটি উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে অফিস আদালতসহ রাষ্ট্রেরসর্বস্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বকীয়তা ও পরিচিতি সারা বিশ্বে আরো উন্নত করা। এজন্য বাংলাভাষা আন্দোনের অন্যতম শ্লোগান ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।[9]অপর একটি উদ্দেশ্য ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করার জন্য ভাষা আন্দোলন। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মুখের ভাষা উপপেক্ষা করে অন্য একটি ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা চরম অন্যায়, তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে বাংলাভাষা আন্দোলন শুরু হয়। যে জন্য এটি অবশেষে এতদঞ্চলের অবহেলিত জনতার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দূরীকরণ তথা স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রূপ নেয়।
ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও মর্যাদামানুষ তার শৈশবকাল থেকে কথা বলতে শিখলেও তার ভাষা শুদ্ধ হবে, এমন কাথা ঠিক নয়। কোন ভাষায় শুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও সাবলীলভাবে কথা বলতে হলে, সাহিত্য তৈরী করতে হলে সে ভাষা চর্চা করতে হবে। এ জন্য পড়তে হবে, বিশেষ বিশেষ বক্তব্য আত্মস্থ করতে হবে, আবৃত্তি করতে হবে, ভাষাশৈলীর রহস্য জানতে হবে, অনুসরণ করতে হবে। তা হলেই একজন মানুষ বাগ্মী ও পরিশীলিত বক্তব্যের অধিকারী হতে পারে। ইসলাম মানুষের ভাষাকে বিভিন্নভাবে মর্যাদা ও গুরুত্ব দিয়েছে। আর তা হলো, মানুষ জন্মলগ্ন থেকে যে ভাষায় কথা বলে, বড় হয়ে উঠে, সে ভাষায় কথা বলার অধিকার তার জন্মগত অধিকার ও সহজাত প্রবৃত্তি। ফলে এটা তার অস্থিমজ্জা, রক্ত মাংসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হয়ে যায়। তাই ইসলাম মানুসের এ অধিকার কেড়ে নেয় না। মায়ের প্রতি একটি সন্তানের আকর্ষণ যেমন স্বাভাবিক, কারো মাতৃভাষার প্রতি আকর্ষণও তেমনি স্বাভাবিক। স্বভাব ধর্ম ইসলাম মানুষের এ স্বাভাবিক আকর্ষন সহজেই স্বীকার করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন :فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُوَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ.‘‘অতএব (হে নবী), তুমি নিষ্ঠার সাথে নিজেকে সঠিক দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখো, আল্লাহ্ তা‘আলার প্রকৃতির ওপর (নিজেকে দাঁড় করাও), যার ওপর তিনি মনুষকে পয়দা করেছে; (মনে রেখো) আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে কোনো রদবদল নেই; এ হচ্ছে সহজ জীবনবিধান, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।’’[10]আল্লাহ্ তা‘আলা মানুষের মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দিতে যেয়ে তাঁর প্রেরিত প্রত্যেক নবীকে স্বজাতির ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন এবং এ ভাষাতেই কিতাবাদি নাযিল করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.
‘‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের নিকট পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য, আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’’[11]আর এ কারণেইআল-কুর’আন আরবী ভাষায় নাযিল হয়েছে।ইসলাম মাতৃভাষা নিয়ে গর্ব অবৈধ মনে করে না বরং বর্ণিত আছে, রাসূল সা. মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়ের ভাষায় কথা বলতে গর্ববোধ করতেন। তিনি বলতেন : ‘‘আরবদের মধ্যে আমার ভাষা সর্বাধিক সুফলিত। তোমাদের চাইতেও আমার ভাষা অধিকতর মার্জিত ও সুফলিত।’’[12]এর কারণ তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘‘আরবের সবচেয়ে মার্জিত ভাষার অধিকারী সাদিয়া গোত্রে আমি মানুষ হয়েছি। তাদেরই কোলে আমার মুখ ফুটেছে। তাই আমি সর্বাধিক সুফলিত ভাষা ব্যক্ত করেছি।’’[13]কাজেই মাতৃভাষা নিয়ে গর্ব করা যায়। সকলেই মাতৃভাষা চর্চার, একে উন্নত করার অধিকার রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে কাজ করা কর্তব্যওবটে। মূল আরবী ভাষা এক হলেও আরবদের গোত্রভেদে উচ্চারণ ও পঠনরীতির মাঝে কিছুটা পার্থক্য আছে। যাকে কেন্দ্র করে একই অর্থের বিভিন্ন শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয় যাকে আরবী পরিভাষায় মুরাদিফাত বলে।যাহোক, আল-কুর’আন মূলত ভাষা ও উচ্চারণ রীতিকে প্রাধান্য দিয়েই অবতীর্ণ হয়। কিন্তু ইসলাম ভাষাগত আঞ্চলিকতা তথা মাতৃভাষাপ্রতি এতই গুরুত্ব দিয়েছে যে, আল-কুর’আন আরবের বিভিন্ন পঠনরীতিতে পাঠ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ জন্য কুর’আন পাঠ সাত ক্বির’আত (পঠনরীতি) প্রচলিত আছে। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে,قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : إن القرآن أنزل على سبعة حروف فاقرؤوا ما تيسر منه.‘‘রাসূল সা. বলেছেন : নিশ্চয়ই কুর’আন সাত হরফে বা উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব, এসকল ভাষার মধ্যে যে ভাষাটি (তোমাদের কাছে) সহজ হয়, সেভাষাতেই তোমরা তা পাঠ কর।’’[14]মাতৃভাষার প্রতি আকর্ষণ ও ভালবাসা মাতৃভূমির প্রতি প্রেমের ন্যায় ঈমানের অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। মহানবী সা. বলেছেন :حب الوطن من الإيمان.‘‘মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ।’’
অতএব মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। উভয়টি মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণের অন্যতম উৎস। কেননা, মাতৃভাষা মানুষের পবিত্র এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবলম্বন। এ ভাষার মধ্যে মানুষ অংকুরিত হয়। এ ভাষার মধ্যে মানুষ সর্বদা প্রবাহিত থাকে। এ ভাষায় তাদের অস্তিত্ব স্বাক্ষরিত হয়।ভাষা বিকৃতি করাও ইসলাম সমর্থন করে ন। কারণ, আহলে কিতাবগণ বিকৃত উচ্চারণ ও মুখ বাঁকিয়ে গ্রন্থ পাঠ করে ভাষাগত জটিলতা সৃষ্টি করত এবং তাদের অনুসারীদের ধোঁকা দিত। আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের এ ভাষাগত বিকৃতি পছন্দ করেননি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন :وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُمْ بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ.‘‘আর তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা বিকৃত উচ্চারণে মুখ বাঁকিয়ে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা মনে কর, তারা কিতাব থেকেই পাঠকরছে, অথচ তারা যা পাঠ করছে তা আদৌ কিতাব নয় এবং তারা বলে : এসব কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল কৃত অথচ এসব আয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ নয়। তারা বলে : এটি আল্লাহর কথা, অথচ আল্লাহর কথা নয়; আর তারা জেনে শুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে।’’[16]অন্য এক আয়াতে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ وَيَقُولُونَ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ وَلَوْ أَنَّهُمْ قَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَاسْمَعْ وَانْظُرْنَا لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ وَأَقْوَمَ وَلَكِنْ لَعَنَهُمُ اللَّهُ بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَّا قَلِيلًا.‘‘ কোন কোন ইয়াহুদী তার লক্ষ্য থেকে কথার মোড় ঘুরিয়ে নেয় এবং বলে : আমরা শুনেছি কিন্তু অমান্য করছি। তারা আরো বলে : শোন না শোনার মত, মুখ বাঁকিয়ে দ্বীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শণের উদ্দেশ্যে বলে ‘রায়িনা’ (আমাদের রাখাল), অথচ যদি তারা বলত : আমরা শুনেছি ও মান্য করেছি (এবং যদি বলত), শোন এবং আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখ, তবে সেই ছিল তাদের জন্য উত্তম,আর সেটাই ছিল যথার্থ ও সঠিক। কিন্তু আল্লাহ্ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন তাদের কুফরীর ধরণ। অতএব, তারা ঈমান আনছে না, কিন্তু অতি অল্প সংখ্যক ঈমান এনেছে।’’
অতএব উচ্চারণ বিকৃতি তথা ভাষা বিকৃতি ইসলামে নিষিদ্ধ। এ জন্য দেখা যায়, মূসা (আ.) স্বীয় ভাষায় উচ্চারণ বিকৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার নিমিত্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন :وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي . يَفْقَهُوا قَوْلِي.‘‘আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’’[18]কাজেই ভাষার বিকৃতি পরিত্যাজ্য। কারণ, ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ বিকৃতি করতে করতে এক সময় তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তখন মানুষ তার কথা শুনতে পছন্দ করে না। সুতরাং উচ্চারণ বিকৃতি বৈধ নয়; বরং ভাষার মাধূর্য বৃদ্ধির জন্য সকলতে আল্লাহর কাছে দু‘আ করা উচিত।ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য পর্যালোচনাভাষা আন্দোলনের পূর্বোল্লিখিত উদ্দেশ্যের মাঝে এখানে মাতৃভাষা ব্যবহার করার অধিকারের বিষয়টি আসে। এর ব্যাখ্যা করতে গেলেআল-কুর’আন ও সুন্নাহর দিকে দৃষ্টিপাত করলে মানুষের মাতৃভাষা ব্যবহার করা এবং এ ব্যবহারের অধিকার আদায়ের আন্দোলন সম্পর্কে অনেকগুলো দিক পাওয়া যায়। সেগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো :ক.ইসলাম ঘোষণা করেছে, মাতৃভাষা ব্যবহার করার অধিকার মানুষের সৃষ্টিগত তথা জন্মগত অধিকার। কারণ মহান আল্লাহ্ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সাথে সাথে তাকে তার ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :الرَّحْمَنُ . عَلَّمَ الْقُرْآنَ . خَلَقَ الْإِنْسَانَ . عَلَّمَهُ الْبَيَانَ.‘‘দয়াময় আল্লাহ্। তিনিই শিক্ষা দিয়াছেন কুরআন। তিনিই সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষ। তিনিই তাহাকে শিখাইয়াছেন ভাব প্রকাশ করিতে।’’[19]এ আয়াতে মানব সৃষ্টির সাথে ভাষা শিক্ষার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। এটির কারণ হলো ভাষা মানুষ সৃষ্টির একটি অবিভাজ্য বিষয়। যে ভাষার মাধ্যমে পরস্পরে ভাব বিনিময় করবে, সে ভাষাই হবে পরস্পরের সম্পর্কের সেতুবন্ধন। মানুষের ভাষা মহান আল্লাহ্ তা‘আলার একটি বিশেষ নি‘আমত। আর মানুষের এ ভাষা কৌশল আল্লাহর ইচ্ছাকৃত সৃষ্টি। এ জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা আদম আ.কে সৃষ্টির সাথে সাথেই তাঁকে ভাষাজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেন :
وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ . قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ . قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ.‘‘আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেই সমুদয় ফিরিশতাদের সম্মুখে প্রকাশ করলেন এবং বললেন : ‘এ সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ তারা বলল : ‘আপনি মহান, পবিত্র। আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ব্যতীতআমাদের তো কোন জ্ঞানই নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়।’ তিনি বললেন : ‘হে আদম! তাদেরকে এই সকল নাম বলে দাও।’ সে তাদেরকে এ সকলের নাম বলে দিলে তিনি বললেন : ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর অদৃশ্য বস্তু সম্বন্ধে আমিনিশ্চিতভাবে অবহিত এবং তোমরা যা ব্যক্ত কর বা গোপন রাখ আমি তাও জানি?’’’[20]আলোচ্য আয়াতের أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ অংশ দ্বারা পৃথিবীর সকল ভাষাকে বুঝানো হয়েছে।[21]মাতৃভাষার সাথে মানুষের আত্মার সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষা ব্যবহার করার অধিকার মানুষের সত্ত্বাগতও স্ববাবজাত তথা জন্মগত মৌলিক অধিকার। শুধু মৌলিক অধিকারই নয়। এটি মৌলিক অধিকার জরুরী অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্থগিত ঘোষিত হতে পারে; কিন্তু ভাষা এমন ধরনের অধিকার যা কখনো হস্তক্ষেপযোগ্য নয়। আর এটি করলে মানবসৃষ্টির কাঠামোতেই হস্তক্ষেপকরা হবে, তার অস্তিত্ব ও সত্ত্বাকে অস্বীকার করা হয়। সুতরাং এ যদি হয় ভাষা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি, তাহলে তা ব্যবহার করার অধিকার আদায় আন্দোলনে নিঃসন্দেহে কোনরূপ বাধা প্রদান করে না। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে ভাষা আন্দোলন অধিকার আদায়ের আন্দোলন। আর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে ইসলাম বিভিন্নভাবে মানবজাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে।অধিকার আদায়ের জন্য ইসলামে যুদ্ধের প্রয়োজন হলে যুদ্ধ করে অধিকার আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন :أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ.
‘‘যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যারা আক্রান্ত হয়েছে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করতে সম্যক সক্ষম।’’[22]আর এ অধিকার আদায় করতে যেয়ে সংঘর্ষ হলে তাতে যদি কেউ ইন্তিকাল করে তাহলে তাকে শহীদের মর্যাদা দেয়া হবে। কিয়ামতে যার প্রতিদান হবে জান্নাত। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনায় এসেছে,عن زيد بن علي بن حسين عن أبي  عن جده قال : قال رسول الله – صلى الله عليه و سلم – : من قتل دون حقه فهو شهيد.‘‘যায়িদ ইব্ন ‘আলী ইব্ন হুসাইন তার পিতা থেকে তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করে বলেন : কোন নিপীড়িত অধিকার বঞ্চিত (মুসলিম) নিজের অধিকার তথা হক আদায়ে যুদ্ধ করে নিহত হলে সে শহীদ।’’[23]অপর এক হাদীসের বর্ণনায় এসেছে যে, সত্যের পথে, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ও অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করাই সর্বোত্তম জিহাদ। এ প্রসঙ্গে রাসূল সা. বলেন :عن أبى سعيد الخدرى قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر . أو أمير جائر .‘‘আবূ সা‘ঈদ আল-খাদুরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন : অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে হক তথা সঠিক কথা বলাঅর্থাৎ ন্যায় অধিকার প্রদান করার স্পষ্ট দাবী করাই শ্রেষ্ঠ জিহাদ।’’[24]খ.ইসলাম এমন কথা বলে না যে, যেহেতু আল-কুর’আন আরবী বাষায় এবং শেষ নবী সারা বিশ্বের মানুষের নবী আরবী ভাষাভাষী, সেহেতুসারা বিশ্বের মানুষের ভাষা হবে ‘আরবী। তাদের মাতৃভাষা ত্যাগ করে শুধু ‘আরবী ভাষায় কথা বলতে হবে। এর সমর্থনে প্রমাণ স্বরূপ কুর’আন ও হাদীসে অনেক দিক পাওয়া যায়। যেমন :ইসলাম সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে ভাষার বিভিন্নতা ও বৈচিত্রতাকে স্বীকার করে নিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে, এ বৈচিত্রতা মানুষের হাতে গড়া নয়। এটি আল্লাহ্ তা‘আলারই সৃষ্টিকুলে এক রহস্যময় নিদর্শন স্বরূপ। কুর’আনুল কারীমে মহান আল্লাহ্ ঘোষণা করেছেন :وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِلْعَالِمِينَ .‘‘আর তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্যতম নিদর্শন হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণে বৈচিত্রতা। নিশ্চয়ই এতে পৃথিবীবাসীর জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন।’’
কথা বলা বা ভাব প্রকাশের মাঝে একই রকম। কিন্তু এতদসত্ত্বেও বিভিন্ন কোকিলের সুরে যেমন সাদৃশ্য পাওয়া যায়, তেমনি বিভিন্নমানুষের সুরে ভাষায়ও সাদৃশ্য পাওয়া যায় না। তা ছাড়া পরিবেশ পরিস্থিতি তথা আবহাওয়াজনিত কারণে বাক্য বিন্যাস বৈচিত্রতা ও দৃষ্টিভঙ্গির বিভিন্নতার প্রেক্ষাপটে ভাষায় বিভিন্নতা অহরহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।[26]ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বর্তমান বিশ্বে ভাষার সংখ্যা ২৭৯৬টি। ক্রমান্বয়ে মানুষ বেড়ে যাচ্ছে। এ ক্ষুদ্র বাংলাদেশেইবাংলা ভাষাতে বৈচিত্র লক্ষ্যণীয়। তাই পৃথিবীর অসংখ্য ভাষাকে একটি ভাষায় রূপ দেয়া ইসলামের উদ্দেশ্য নয় এ দুনিয়াতে। এ প্রসঙ্গে হাদীসের এক বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, ‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা সব ভাষাই জানেন।’’[27]আল্লাহ্ তা‘আলা এ সুন্দর পৃথিবীর মানবজাতির হিদায়াতের জন্য প্রায় লক্ষাধিক নবী প্রেরণ করেছেন। এমনকি প্রত্যেক সম্প্রদায়তথা জাতির জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা নবী পাঠিয়েছেন। কুর’আনে আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন :إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ.‘‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সত্য, সুসংবাদ ও সতর্ককারী রূপে। আর এমন কোন জাতি নেই যার নিকট সর্তকারী প্রেরিত হয়নি।’’[28]এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে, হিন্দুস্থান, চীন, আরব, গ্রিক তথা সারা বিশ্বের ভিন্ন ভাষা-ভাষী মানুষের নিকট আল্লাহ্ তা‘ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। আর তাঁদের ভাষা ছিল মাতৃভাষা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.‘‘এ পৃথিবীতে আমি যত নবী রাসূল পাঠিয়েছি, প্রত্যেককে তার মাতৃভাষা তথা স্বজাতির ভাষাভাষী করেই পাঠিয়েছি এজন্য যে, তারা যেন মানুষের নিকট আমার দেয়া দা‘ওয়াত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করতে পারেন।’’[29]
এ আয়াতের মাধ্যমেও পৃথিবীর সকল ভাষার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। আমরা যদি প্রাচীন নবী-রাসূলদের জীবনেতিহাস বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাব যে, প্রসিদ্ধ আসমানী গ্রন্থগুলো বিভিন্ন ভাষায় নাযিল হয়েছে। যেমন : তাওরাত হিব্রু ভাষায়, যাবুর গ্রিক ভাষায়, ইঞ্জীল সুরিয়ানী ভাষায় এবং মহাগ্রন্থ আল-কুর’আনুল কারীম ‘আরবী ভাষায়। এটাও ভাষা বৈচিত্র স্বীকৃতির জ্বলন্ত প্রমাণ।এ প্রসঙ্গে আরো লক্ষ্যনীয় যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দো-ভাষী নিয়োগ করতেন। সকল দেশের সকল ভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহানবী সা. যায়িদ ইব্ন সাবিত রা.কে বিদেশী ভাষা শিক্ষা করতঃ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা বুঝে তাদের চিঠিপত্র পড়া, লিখা ও ভাব বিনিময়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন।[30]মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীতে কিছু কিছু এলাকার অধিকাসীরা তাদের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে অফিস আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে মাতৃভাষা ব্যবহার করার জন্য সাংবিধানিক স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলন করছে। সুতরাং রাষ্ট্রভাষা হিসেবে নির্দিষ্ট ভাষাভাষী জাতি তাদের পরিচিতি বা স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় একটা জাতীয় প্রতীক ধারণকরা ইসলাম বৈধ হিসেবে দেখে। বিভিন্ন সম্প্রদায় বা জাতির সেই প্রতীকী স্বাতন্ত্র্য বা স্বকীয়তাকে ইসলাম স্বীকৃতি দেয়। আল-কুর’আনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে :يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍوَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء…‘‘হে মানব! তোমরা ভয় কর তোমাদের রবকে, যিনি পয়দা করেছেন তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে এবং যিনি  পয়দা করেছেন তার থেকে তার জোড়া,আর ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের দু’জন থেকে অনেক নর ও নারী।…’’[31]অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ.“হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিতি হতে পার। তবে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক আল্লাহকে ভয় করে।’’[32] continue.....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
back to top